মুখ্য পৃষ্ঠা > খবর সংসার > খবর/সংবাদ > জাতীয়
পরামর্শ বা প্রতিক্রিয়ামিত্রকে পাঠানএই পৃষ্ঠা প্রিন্ট করুন
 
মে দিবসঃ কিছু প্রশ্ন
ব্যুরো রিপোর্ট, বাংলা ওয়েবদুনিয়া

মানব সভ্যতার উষালগ্ন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এরাই সভ্যতাকে কান্ডারী হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন৷ এরা হলেন তারা , যারা মাঠে-ময়দানে উদয়াস্ত কাজ করেন৷ নিজের জীবনের প্রতিটি রসকে নিঃশোষিত করে সভ্যতার সৃজন করেন৷ এরা অজেয়, দুর্বার শক্তির অধিকারী৷ এরা আমার, আপনার সকলের কাছে পরিচিত ''শ্রমিক শ্রেণী৷"

পয়লা মে 'বিশ্বশ্রমিক দিবস' বা 'মে ডে' হিসাবে পালিত হয় সারা পৃথিবী জুড়ে৷ বছরের একটি দিন নিজেদের দিন হিসাবে দাবি করেন পৃথিবীর তামাম শ্রমজীবি মানুষ৷ মহান শ্রমিক দিবসের একটি নিজস্ব ইতিহাস আছে৷ আগে শ্রমিকদের কারখানায় কাজ করতে হত ঘন্টার পর ঘন্টা৷ কোন বিশ্রাম বা অবকাশের সময় ছিল না৷ কাজ করতে হত 14, 16 বা 18 ঘন্টা৷ কিন্তু শ্রমিক শ্রেণী এইসব অন্যায় সহ্য করলেও মুখ বুজে থাকেনি৷ দেওয়ালে পীঠ লেগে গেলে তারা গর্জে ওঠে- দিনে আট ঘন্টা কাজের দাবিতে৷ মালিক পক্ষও তো ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়৷ তারাও শ্রমিকদের দাবিকে দমন করতে তৈরী৷ শুরু হল মালিক-শ্রমিক নতুন দ্বন্দ৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই অসম যুদ্ধে জয়ী হল শ্রমিকরাই৷ তাদের দাবিই শেষ পর্যন্ত জয়ী হল৷

ইতিহাসের পাতা থেকে এবার চোখ ফেরানো যাক বর্তমান প্রেক্ষাপটে৷ আরও স্পষ্ট করে বললে বিশ্বায়নের সময়ে৷ সাম্প্রতিক কালে খোদ পশ্চিমবঙ্গেই 'শিল্পায়ন' হবে কি হবে না তা নিয়েই ঘটে গেছে চূড়ান্ত মতবিরোধ৷ পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল এই কিছু দিন আগে পর্যন্ত লাল পতাকা আর শ্রমিক কল্যাণের ধুয়ো তুলে ধরণা দিতেন, পারলে মায় ধর্মঘট পর্যন্ত৷ এই করে করেই বন্ধ হয়ে গেছে অসংখ্য কল-কারখানা৷ বন্ধ হয়ে গেছে বহু চটকল৷ কিন্তু সময় বদলেছে৷ পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল রাজ্যে শিল্পায়ন এবং বিদেশী বিনিয়োগের প্রয়োজনীতা বুঝতে পেরেছেন৷ শুরু হল বাম রাজত্বে শিল্প স্থাপনের নতুন অধ্যায়৷ যে অধ্যায়ে উঠে আসে সিঙ্গুর, নন্দীগ্রামের মত নতুন নতুন বিতর্ক৷ আর সবথেকে আশ্চর্যের যে বিরোধী দলগুলো এতদিন রাজ্যে শিল্প নেই বলে গলা ফাটাতেন, তারাই এবার নিছক বিরোধীতা করার জন্য স্লোগান দিলেন - কৃষিজমি নিয়ে কোন শিল্প নয়৷

ইতিহাস কিন্তু অন্য কথা বলে৷ পৃথিবীতে যে সব দেশে শিল্পায়ন হয়েছে তার অধিকাংশই গড়ে হয়েছে কৃষিজমি অধিগ্রহণের মধ্য দিয়ে৷ কিন্তু হায়! একথা বিরোধী নেতা-নেত্রীদের কে বোঝায়? তারা তো ভীষ্ম প্রতিজ্ঞা করে বসে আছেন- শিল্প হতে দেব না৷

রাজ্য সরকার যে পুরোপুরি নির্দোষ তাও কিন্তু নয়৷ কেননা রাজ্যে শিল্পস্থাপন নিয়ে যে 'নীতি' তাতেও দোনামনা রয়েছে খোদ সিপিএম ও তাদের শরিক দলগুলোর মধ্যে৷ সিপিএমেরই কিছু 'গোঁড়া-রক্ষণশীল' নেতা মুখ্যমন্ত্রীর প্রয়াসে মুখে না বললেও মনে মনে অসন্তুষ্ট৷

একথা ঠিক যে নন্দীগ্রামে যা হয়েছে তা হয়তো মেনে নেওয়া যায় না৷ কিন্তু তাই বলে শিল্প হবে না, নতুন কল-কারখানা স্থাপন হবে না? কোনো সভ্য আর আধুনিক সমাজ কি একথা মেনে নিতে পারে? কেননা শিল্প না হলে সভ্যতার চাকা যে চলবে না৷ আরও সুস্পষ্ট করে বললে সৃষ্টি হবে না নতুন শ্রমিক শ্রেণীর৷ আর শ্রমিক শ্রেণী না থাকলে 'মে দিবস' পালন করার কোন অর্থ আছে কিনা তাও ভেবে দেখবার সময় এসেছে৷
অতিরিক্ত
মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ইউপিএ সরকারকে হুঁশিয়ারি কারাটের
ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জ্বীবন কারাবাস
পোলিং এজেন্টদের রেকর্ডও দেখবে নির্বাচন কমিশন
সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে ইউপিএকে দুষলেন সুষমা
দুই মাসেও খোঁজ নেই জাহাজের
অসমে গ্রেনেড বিস্ফোরণে মৃত 2