নতুন দিল্লিঃ ইন্দো-মার্কিন পরমাণু ইস্যুতে অরাজী বামেরা শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস পরিচালিত ইউপিএ সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলেন৷ বহুদিন ধরেই সমর্থন প্রত্যাহার করার হুমকি দিয়ে আসছিলেন কারাতরা৷ এবারে সেই প্রত্যাহারের চিঠিতে মোহর লাগালেন তারা৷ বামেরা যে সমর্থন প্রত্যাহার করবে সেই বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন অনেকেই৷ কিন্তু বিস্ময় এই কারণে জাগে যে এমন সময়ে বামেরা সমর্থন প্রত্যাহার করে বসলেন যখন কিনা দেশের প্রধানমন্ত্রী জি-8 সন্মেলনে যোগ দিতে জাপানে গেছেন৷ মূলত তাদের এই সিদ্ধান্তে যত না হতচকিত সাধারণ মানুষ, তার থেকেও বেশী হতবম্ব৷
সাড়ে চার বছর আগে সাম্প্রদায়িক দলগুলিকে আটকনোর ধুঁয়ো তুলে বুর্জোয়া কংগ্রেসকে সমর্থন করেছিলেন বামেরা৷ তারপর থেকে অহি-নকুল সংসারে ছোটো-খাটো ফায়ারিং হলেও বড় গন্ডগোল বাঁধল, যেদিন ইন্দো-মার্কিন অসামরিক পরমাণু চুক্তি সামনে আসে৷ আর তারপর থেকেই শুরু হয় বাম-কংগ্রেস নতুন তরজা৷ সেই বিতর্ক সমর্থন প্রত্যাহারের মধ্যদিয়ে শেষ হল৷ আর দিশাহীন রাজনীতির কান্ডারি কারাত-ইয়েচুরি-বর্ধনরা যে আরেকবার দিশাহীন রাজনীতির পরিচয় দিলেন তা সমর্থন প্রত্যাহারের বিষয়েই পরিষ্কার হয়ে গেল৷
বামেরা দাবি করেন বেশ জোড়ের সঙ্গেই তারা নাকি যুক্তিবোধের রাজনীতি করেন৷ কিন্তু যখন মনমোহন সিং দেশের বাইরে, তখন সমর্থন তুলে তারা যে কি যুক্তিবোধ, বাস্তববাদের পরিচয় দিলেন তা কেউই জানে না৷ আসলে যুক্তির ধার বামেরা কোনদিনই ধারেননি৷ তারা আসলে বাস্তব জগতে বসবাস করে ইউটোপিয়ান সমাজের স্বপ্ন দেখেন৷ না হলে সংসদীয় রাজনীতিতে বামেরা এমন অশোভনীয় সিদ্ধান্ত নিলেন কিভাবে? তবুও তারা নিলেন- কারণ জেদ আর অবাস্তব কথা ছাড়া কারাতরা কিছুই বলেন না৷ তাই অনেকেরই প্রশ্ন কালনেমীর লঙ্কা ভাগে ভাগ না পেয়েই কি এমন অযথা সিদ্ধান্ত নিলেন মার্কস-লেনিনের ধামাধারীরা৷উত্তর ক্রমশই প্রকাশ্য৷
|