মুখ্য পৃষ্ঠা >  ধর্ম > আস্থা অথবা অন্ধবিশ্বাস > নিবন্ধ
পরামর্শ বা প্রতিক্রিয়ামিত্রকে পাঠানএই পৃষ্ঠা প্রিন্ট করুন
 
নোংরাজলে ডুবে ভূতপ্রেত তাড়াও
শ্রুতি অগ্রবাল
শ্রুতি অগ্রবাল
ShrutiWD
চারিদিকে প্রবল অন্ধকার ও তার মধ্যে শোনা যাচ্ছে বাতাসের শনশন করা শব্দ৷ তার মধ্যে উঠে আসছে করুণ কান্নার শব্দ ও মৃদু মৃদু কোলাহলের আওয়াজ৷ সমস্ত পরিবেশটি ক্রমশ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে তার মধ্যেই নিজের অস্থিত্বকে প্রমাণ করে চলেছে জাবরা হুসৈন টিলা৷ এই টিলার সম্বন্ধে অনেক কিছু অস্থির করা তথ্য আমাদের অনেকের কাছে এসে পৌঁছেছে৷ আমাদের মনের মধ্যে একরকম ইচ্ছা জাগল এই টিলায় গিয়ে সব কিছু নিজের চোখে দেখে আসার বিষয়ে৷

এই টিলাটিতে ভুত-প্রেত তাড়ানোর জন্য লোকেদের দিয়ে অনেক রকমের অবৈধ কাজ করানোর খবর শোনা যায়৷ তাই আমরা সবাই মিলে ঐ টিলাতে গিয়ে রহস্য ভেদ করার জন্য সকালের সময়টাকেই নির্বাচন করলাম৷ আমরা খুব সকাল সকাল বেরিয়ে পড়লাম এবং সেই রহস্যময় হুসেন টিলাতে যখন পৌঁছালাম তখন ঘড়িতে মাত্র সাতটা বেজেছে৷ আমরা যখন ঠিক এই টিলার মূখ্য দরজার সামনে পৌঁছলাম, ঠিক তখনই সেখান থেকে কয়েকজন মহিলা পাগলের মতন নাচ করতে করতে বেড়িয়ে আসছিল৷

ফটোগ্যালারী দেখার জন্য ক্লিক করুন

তাদের মধ্যে জমুনা বাই ও কৌসর নামের মহিলারা আরে বাবা রে ......বলতে বলতে অদ্ভুত রকমের আচার আচরণ করছিল৷ তাদের এই অদ্ভুত রকমের ব্যবহার অনেকের শ্বাসকে অবরুদ্ধ করে দেবার পক্ষে যথেষ্ট ছিল৷ এই রহস্যকে ভালো করে জানবার জন্য আমাদের মধ্যে কয়েকজন তাদের সাথে আলোচনা করতে লাগল৷ জমুনা বাই-এর স্বামী আমাদেরকে জানালো যে তার স্ত্রীর ব্যবহার কয়েকদিন ধরেই বদলে যাচ্ছিল৷ তার আচরণে অস্বাভাবিকতার লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছিল৷ তখন ঠিক সেই সময়ে তাদের এলাকার এক ফকির তাকে জানায় যে এই সমস্ত ব্যবহার ডাইনীদের ভর করার লক্ষণ৷ আর ঠিক তার পরেই অন্য লোকেদের পরামর্শে এই হুসেন টিলাতে তাদের আগমন হয়
ShrutiWD


"আমরা সপ্তাহ দুই আগে ওকে এখানেতে নিয়ে আসি"৷ তারপর এখানে এসে তাকে যখন সুতো পড়ানো হল৷ তার ঠিক পরেই তার অদ্ভুত রকমের আওয়াজ করার প্রবণতা আরও বেড়ে গেল৷ তখন আমাদের বলা হয়েছিল আজ থেকে পাঁচ জুম্মা কাটানোর পর সে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাবে৷ এই সমস্ত কথা হয়ে যাবার পর আমরা হজরত হুসেনের রোজাতে প্রবেশ করলাম৷ তার ভেতরে প্রবেশ করার পর আমাদের এক ভয়ানক অনুভূতি হল৷

চারিদিক জুড়ে মহিলাদের কানফাটানো চিত্কার, দেয়ালেতের তাদের মাথা ঠোকার ভয়ঙ্কর দৃশ্য, গরম মাটিতে গড়িয়ে যাওয়া এবং শেকলে বাঁধা লোকের অস্ফূট আওয়াজ আমাদেরকে বিচলিত করে তুলছিল৷ মানুষের উপর এই অত্যাচার কী হওয়া উচিত? এই প্রশ্ন বারবার মনে আসছিল৷ এখানে এই রকম ঘটনা কেন হচ্ছে তা আমাদের মনে মধ্যে ধাক্কা দিচ্ছিল৷ তাই এই রহস্যভেদের লক্ষ নিয়ে আমরা এই টিলার কার্যকরী আধিকারিক তৈমূরী সাহেবের সাথে যোগাযোগ করলাম৷

তৈমূরী সাহেব আমাদেরকে জানালেন যে কোনো রকমের সমস্যায় জর্জরিত লোকেদের এখানে ভালো করে জলেতে স্নান করানো হয়ে থাকে৷ তারপরে এক বিশেষ ধরণের সুতোকে তাদেরকে পড়ানো হয়ে থাকে এবং আরেকটি বিশেষ সুতোকে তাদের গলাতে পড়িয়ে দেওয়া হয়৷ এই সুতোর এমনই গুণ যে কিছুক্ষনের মধ্যে সেই ব্যক্তির মধ্যে সেই প্রেত উপস্থিত হতে থাকে এবং সেই ব্যক্তি নিজের মনে নাচতে শুরু করে দেয়৷

আপনার কি মনে হয় ভূত-প্রেত আছে? আপনার রায় দিন
ভিডিও দেখুন
1 | 2 | 3  >>  
ফোটোগ্যালারী
জাবরা হুসেনের টিলার ফটোগ্যালারী
ওয়েবদুনিয়া তর্ক
ভূত-প্রেতের চিকিত্সা কে করতে পারে? ওঝা না মনোচিকিত্সক
অতিরিক্ত
অশ্বথামা কে ছিলেন