মুখ্য পৃষ্ঠা >  ধর্ম > আস্থা অথবা অন্ধবিশ্বাস > নিবন্ধ
পরামর্শ বা প্রতিক্রিয়ামিত্রকে পাঠানএই পৃষ্ঠা প্রিন্ট করুন
 
সীতা বাই মুখ দিয়ে পাথর বের করতে পারে?
শ্রুতি অগ্রবাল
ShrutiWD
এবারে আমরা আস্থা ও অন্ধবিশ্বাসকে পরীক্ষা করবার জন্যে পৌঁছেগেলাম উজ্জয়ন এর পাশে অবস্থিত একটি ছোট গ্রাম রলাযতা৷ বিভিন্ন সুত্র থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে, এই গ্রামে এক বৃদ্ধ মহিলা বাস করে যে কিনা তার মুখ থেকে যেকোন পাথরকে বের করে দিতে পারে৷

এই ঘটনাটিকে পর্যবেক্ষণ করবার জন্যে আমরা সেই গ্রামের উদ্দেশ্যে বেরোলাম৷ আমাদের যাত্রা চলাকালীন যখনই আমরা উজ্জয়ন এর বাইরে অবস্থিত কালিদেহ প্যালেস পার হয়ে গিয়ে, আমরা ঠিক করলাম যে এবারে রলাযতা গ্রামের সঠিক রাস্তাটা জেনে নেবার দরকার আছে৷

ফটোগ্যালারী দেখার জন্য এখানে ক্লিক করুন

আমার এর কিছু সময়ের পরেই একটা গড়রিয়াকে দেখলাম৷ আমরা যেই মুহূর্তে তাকে এই গ্রামে পৌঁছাবার রাস্তা সম্বন্ধে প্রশ্ন করলাম, তখন সে আমাদের সেই প্রশ্নের জবাব না দিয়ে আমাদেরই উল্টে প্রশ্ন করল যে আমাদের কি পাথর বের করতে হবে? তার এই প্রশ্নের জবাবে আমাদের হ্যাঁ বলা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না
ShrutiWD


তারপর সে আমাদের সোজাদিকের রাস্তাতে যেতে বলল এবং সেই রাস্তা ধরে যাবার পথে আরও কারুর কাছ থেকে সঠিক রাস্তা সম্বন্ধে জেনে নিতেও বলল৷ আমরা তার পরামর্শ অনুযায়ী যেতে লাগলাম এবং কিছু সময় পরেই সীতা বাই এর জায়গায় পৌঁছালাম৷ এখানে আসবার ঠিক কিছুক্ষণ পরেই আমরা লক্ষ করলাম যে দূর্গা মন্দিরের কাছে এক বৃদ্ধ মহিলাকে ঘিরে এক জমায়েতের সৃষ্টি হয়েছে৷ এরপর আমরা জানতে পারলাম যে ইনি হলেন সেই বিখ্যাত বৃদ্ধ মহিলা এবং তিনি এখন পাথর বের করবার কাজেতে ব্যস্ত আছেন৷

তাকে ঘিরে থাকা মানুষের উদ্দেশ্য ছিল যে তার কাছ থেকে নিজেদের চিকিত্সা করানো৷ সীতা বাই একনিষ্ঠ ভাবে নিজের কাজ করে যাচ্ছিল৷ আমরার এরপর যে দৃশ্যটি দেখলাম তা অত্যন্ত আশ্চর্যজনক৷ এক ব্যাক্তি মাটির উপরে শুয়ে ছিল এবং সীতা দেবী তাকে প্রশ্ন করছিল যে তার কোন স্থানে ঠিক ব্যাথা করছে৷ তারপর যা ঘটলা তা সঠিক ভাবে বর্ণনা করা খুব কঠিন৷ সীতা বাই সে ব্যাথার স্থানকে কিছু সময় ধরে চুষতে লাগল এবং তার ঠিক পরেই সে তার মুখ থেকে একটা পাথড় বের করে তার সামনে বসা বাচ্চা ছেলেটিকে দিয়ে দিল৷

এরপর থেকে এই ধরণের বেশ কয়েকবার এই দৃশ্য দেখার সুযোগ হল আমাদের৷ তার সকল কাজ শেষ হবার পর আমরা আমাদের কৌতুহল দমন করবার জন্যে তাকে প্রশ্ন করতে শুরু করে দিলাম৷ তখন সীতা বাই আমাদের জানালো যে সে বিগত 18 বছর থেকে এই পাথর বের করার কাজে সে নিযুক্ত আছে৷

সে আরো জানালো যে সে আরো অন্য জায়গাতে অন্যান্য কাজের সাথে যুক্ত আছে এবং তার এই চিকিত্সা পদ্ধতির মূল মন্ত্র হল মাঁ এর উপরের তার চরম বিশ্বাস৷ তবে এই বিশ্বাসকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেলে তবেই তার চিকিত্সা সফল হয় নয়ত নয়৷

ShrutiWD
আমাদের সাথে আলোচনা শেষ হবার পরেই সে আবার তার পাথর বের করবার কাজে নিজে ব্যস্ত হয়ে পড়ল৷ অন্যদিকে আরেকটি মজার দৃশ্য আমাদের চোখে পড়ল যেটা ছিল অসুস্থ রুগীর ঘরে লোকেরা তাদের নিজের লোকেদের সুস্থ করার জন্যে পালং শাক, টমেটো, বেগুন এবং অন্যান্য খাবার জিনিস প্রণামী হিসাবে দিচ্ছেন৷

সীতা দেবী ওষুধ হিসাবে তুলসী পাতা ও বেল পাতার চূর্ণ করে তাদের খাবার হিসাবে দিচ্ছেন৷ অবশ্য সেই ওষুধকে খাবার পদ্ধতিও তিনি বলে দিচ্ছেন৷ এই ওষুধগুলিকে তিন দিন ধরে বিকাল বেলাতে খাবার নির্দেশ দিচ্ছেন৷তার কাছে চিকিত্সা করবার জন্যে রাজস্থান, কানপুর, গোয়ালিয়র এর মতন দূর দূর থেকে লোকে আসতে থাকে৷
ভিডিও দেখুন
1 | 2  >>  
অতিরিক্ত
সুরাপান করেন কাল ভৈরবীর প্রতিমা  
স্নান করলে দূর হতে পারে প্যারালাইসিস  
নোংরাজলে ডুবে ভূতপ্রেত তাড়াও  
অশ্বথামা কে ছিলেন
অশ্বথামা কি জীবিত...?