শিব মন্দিরে শিব লিঙ্গের রঙ বদলে যাচ্ছে রাম সেতুকে নিয়ে যে সঙ্কট চলছে তাতে বদলে যাচ্ছে শিবলিঙ্গের রঙ - অরবিন্দ শুক্লা
লক্ষ্ণৌ৷ এটাকে বিশ্বাস বলবেন না অন্ধবিশ্বাস৷ কাশী বিশ্বনাথের নগরী বেনারসেই নয়, এছাড়া উত্তর প্রদেশের রাজধানীর অনেক শিব মন্দিরে শিব লিঙ্গের রঙ বদলে যাচ্ছে৷ এর আগে যেমন গণেশের দুধ খাওয়া নিয়ে সব জায়গায় যেমন হইচই পড়ে গিয়েছিল৷ শিব লিঙ্গের রঙ বদলে যাওয়াতেও ঠিক একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে৷ লক্ষ্ণৌর চারোধাম মন্দিরে শিবলিঙ্গের রঙ বদলে যাওয়ায় ভক্তদের মধ্যে চাঞ্চল্যর সৃষ্টি হয়েছে৷
সমস্ত ভক্তবৃন্দরা ভক্তিরসে ডুবে গিয়ে ভগবান শিবের আরাধনা শুরু করেছেন৷ এই ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার দুপুর 12 টার কিছু আগে৷ যখন মন্দিরে ভক্তরা ভগবান শিবের মূর্তিতে জল চড়াচ্ছিলেন, তখন তাঁরা দেখতে পান কালো পাথরের মূর্তির একটা অংশ সাদা হয়ে গেছে৷ এই দৃশ্য দেখার পর দর্শনার্থীরা ভক্তিতে বিভোর হয়ে যান৷ এরপর থেকেই এই ঘটনাটি সম্পর্কে চর্চা শুরু হয়৷
এই চারোধাম মন্দিরটি রানীকটরাতে অবস্থিত৷এই মন্দিরের সম্পত্তির মালিক হলেন কুন্দনলাল জুয়েলার্সের মালিক অতুল আগরবাল৷ তিনি সপরিবারে এই মন্দিরে পূজো দিতে আসেন৷ অপরদিকে চৌপটিয়ায় অবস্থিত চারোধাম সিদ্ধপীঠ মন্দিরের পূজারী পন্ডিত সিয়ারাম অবস্থী এই ঘটনাকে ঐশ্বরিক চমত্কার বলে মনে করেন৷ এখানে উল্লেখ্য বিষয় হল লক্ষ্ণৌর এই জায়গাটি ছোট কাশী নামে পরিচিত৷
এই অঞ্চলটিতে চারোধাম মন্দির ও বড় কালী মন্দিরের মহিমার কথা সবাই জানে৷ লক্ষ্ণৌর ছোট গলিতে অবস্থিত চারোধাম মন্দিরে রামেশ্বরম, বদ্রীনাথ, কেদারনাথ, দারিকাধীশ এবং জগন্নাথ পুরীর সাক্ষাত দর্শন সম্ভব৷ এখানে স্বর্গ এবং নরকের এই দুটো জায়গারই দর্শন সম্ভব হয়৷
মন্দিরের পূজারী পন্ডিত সিয়ারাম অবস্থী এই প্রসঙ্গে বলেন যে দারিকাধীশ মন্দিরের প্রতিমার সব তথ্য পুরাত্তত্ত্ব বিভাগের কাছে সংরক্ষিত আছে৷ চারোধাম মন্দিরে যে রামেশ্বরম মন্দিরটি আছে তা দক্ষিন ভারতের রামেশ্বরম মন্দিরের অনুকরণে গঠিত৷ এই শিব লিঙ্গের কাছ থেকে লঙ্কায় যাওয়ার জন্য রামসেতু তৈরী করা হয়েছিল৷ এরপর ওখানে রাবণ দরবার তৈরী করা হয়৷ বর্তমানে ওখানে রঙ করা হচ্ছে৷
আশ্চর্যের বিষয় এটাই যে রামেশ্বরের মন্দিরের নামে তৈরী এই মন্দিরটিতে শিবলিঙ্গের রঙ দিন দিন বদলাচ্ছে৷ সমস্ত ভক্তরা ও মন্দিরের পূজারী সিয়ারাম অবস্থী এই ঘটনাকে রামসেতুকে নিয়ে যে সংকট তৈরী হয়েছে সেই ঘটনার সঙ্গে জোড়ার চেষ্টা করছেন৷ এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন তামিলনাডুর মুখ্যমন্ত্রী করুণানিধি রাম বিরোধী বয়ান দেওয়ার জন্য এবং ভারতীয় পুরাত্তত্ব বিভাগের ভুল হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য এই চমত্কারের কথা সবাই জানতে পারে৷
রবিবার উত্তর প্রদেশের রাজধানী লক্ষ্ণৌর রানীকটরা মোহল্লায় অবস্থিত সন্তোষী মাতা মন্দিরের শিব লিঙ্গের রঙ বদলানোয় ভক্তরা সবাই অবাক হয়ে যান৷ এছাড়া পুরোনো মন্দিরে অবস্থিত সাদা শিবলিঙ্গতে লাল রঙের বর্ডার দেখতে পাওয়া যায়৷ এটা দেখেও ভক্তরা সবাই অবাক হয়ে যান৷ এখানে ভগবান শিবের বাহন নন্দী ভগবানেরও রঙ পরিবর্তন হয়েছে৷ এছাড়া এই মন্দিরে শিবলিঙ্গের চোখও সামনে বেড়িয়ে এসেছে৷
সন্তোষী মায়ের মন্দিরের পূজারী চন্দ্রশেখর তিওয়ারী এই প্রসঙ্গে বলেন যে তিনি বিগত 20 বছর ধরে ঐ মন্দিরে পূজো করছেন৷ কিন্তু এই রকম চমত্কার এর আগে কখনও হয় নি৷ এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন ভগবান চমত্কার প্রদর্শন করেন, যাতে ভক্তরা তাঁর মহিমা বুঝতে পারে৷যারা ভগবান রাম এবং শিবকে মানেন না তাঁরা যখন ভগবানের এই চমত্কারগুলো দেখেন তখন তাঁরা এই ঘটনাকে তাঁরা অদৃশ্য শক্তি বলে মনে করেন৷
তিনি আরও বলেন যে কোন শিব মন্দিরে কখনও নাগকে দেখতে পাওয়া যায় আবার কোথাও ছোট মেয়ের রুপে ভগবানকে দেখতে পাওয়া যায়৷ এই গুলো সবই ভগবানের মহিমা৷ মনে যে রকম চিন্তা করা যায় সেই দৃশ্যই বাস্তবে পরিলক্ষিত হয়৷ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই শিব মন্দিরের শিবলিঙ্গটি তাঁর পুরোনো স্বরুপে ফিরে আসছে৷ ভক্তরা বলেছেন রবিবার শিবলিঙ্গকে যতটা লাল বলে মনে হচ্ছিল আস্তে আস্তে আবার তা কালো রঙে বদলে গেছে৷
রানীকটরা চৌপটিয়ার বাসিন্দা মধুবালা, যোগিতা সিং, বন্দনা পান্ডে, বৃজেশ পান্ডে, অজীত কুমার শর্মা, মনোজ মিশ্রা প্রভৃতি ব্যক্তিরা শিবলিঙ্গের রঙ বদলানোর ব্যাপারটিকে অদ্ভুত বলে মনে করছেন৷ শিবলিঙ্গের রঙ বদলাচ্ছে এই ব্যাপারটি প্রচার হয়ে যাবার পর মন্দিরে ভক্তদের ভিড় লেগে যায়৷ বিশেষ সূত্রে জানা গেছে এই ধরনের ঘটনা এর আগে চারবাগ, সরোজিনীনগর, গৌরী গাও প্রভৃতি জায়্গায় ঘটেছে৷
বেশীর ভাগ মানুষ এই ঘটণাকে চমত্কার বলে মনে করছেন এবং তাঁরা এই ঘটনাটিকে প্রচন্ড বিশ্বাসের নজরে দেখছেন৷ এই প্রসঙ্গে পুরাত্তত্ব বিভাগের উপনির্দেশক পি কে সিং বলেন যে শিবলিঙ্গের রঙ বদলানোর বিষয়টি নিয়ে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রয়োজন৷ তিনি আরও বলেন আমাদের কাছে কয়েক হাজার বছরের পুরোনো মূর্তি সংরক্ষিত আছে কিন্তু এই রকম মূর্তি আমরা এখনও পাই নি যার রঙ বদলিয়েছে৷
এই বিষয়টি নিয়ে অন্বেষন এটা পুরাত্তত্ব বিভাগের কাজ নয়৷ এই প্রসঙ্গটি নিয়ে আই.টী.আর.সির প্রাক্তন নির্দেশক এবং বায়োটেক পার্কের মুখ্য অধিকারী ডাঃ পি.কে.শেঠের কাছে জিজ্ঞাসা করা হয় কিন্তু তিনি এই ব্যাপারে কোন রকম বয়ান দেন নি৷ এছাড়া আই.টী.আর.সির কোন বৈজ্ঞানিকের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেবার প্রশ্নে তিনি তাঁর নিজস্ব শচীবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন৷
|