আস্থার অন্ধ জোয়ার শক্তির পূজোয় ভক্তরা কাটল জিভ, দেবী মাকে চড়াল রক্ত
আস্থায় উন্মত্ত হয়ে মানুষ কিনা করে৷ এই বার আস্থা অন্ধবিশ্বাসের পর্বে আমাদের বিশেষ প্রস্তুতিতে আমরা আপনাদের দেখাচ্ছি শক্তির পূজো৷ বিশেষ করে নবরাত্রির সময়ে ভক্তরা শ্রদ্ধায় বিলীন হয়ে যান৷ শ্রদ্ধার জোয়ারে ভেসে ভক্তরা নিজের শরীরে আঘাত করেও দেবী মাকে প্রসন্ন করার চেষ্টা করেন৷ এমনিতে শক্তির পূজোয় এই রকম উন্মত্ত দৃশ্য প্রায়ই দেখতে পাওয়া যায়৷
কিন্তু নবরাত্রির সময়ে এই উন্মত্ততার ভাব সীমা ছাড়িয়ে যায়৷ প্রতি গলির দূর্গা মন্দিরের বাইরে মানুষকে উন্মাদের মত নাচ গান করতে দেখা যায়৷ এই ভক্তদের নিজের শরীর এবং বুদ্ধি কোন কিছুর উপরই এদের কাবু থাকে না৷ সব থেকে প্রথমে আমরা গেছিলাম ইন্দোরের এক দূর্গা মন্দিরে৷ যখন আমরা ওখানে গেলাম ওখানকার অবস্থা দেখে আমরা হতচকিত হয়ে গেলাম৷ ওখানে বেশীরভাগ মানুষ অদ্ভুতভাবে নাচছিল৷ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত একটি জ্বলন্ত কর্পুরের টুকরো মুখে নিয়ে এবং হাতে তলোয়ার নিয়ে ভক্তদের মাঝখানে লাফাচ্ছিল৷ এখানে উপস্থিত সমস্ত ভক্তরা তাঁকে দেবীরুপে মান্য করে তাঁর পূজো করছিল৷ এদের সঙ্গে অন্য কয়েকজন ভক্তও পাগলের মত নাচছিল৷ এই ভক্তদের মধ্যে কেউ হলেন বড় ব্যবসায়ী আবার কেউ হলেন সরকারী অফিসার৷ এছাড়া ভক্তদের মধ্যে সব শ্রেনীর মানুষই উপস্থিত ছিল৷
পুরোহিত সুরেশ বাবার সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম বহু বছর ধরে উনি দেবী মায়ের ভরে পড়েন৷ তিনি যখন ওঙ্কারেশ্বরের মন্দিরে স্নান করেছিলেন তখন থেকেই তিনি দেবী মায়ের এই শক্তি আশীর্বাদস্বরুপ লাভ করেন৷ যখন পুরোহিত মশাই ভরে পড়েন তখন পুরোহিতের কাছে কোন ব্যক্তি যে সমস্যা নিয়ে আসুক না কেন তারা কেউই খালি হাতে ফিরে যান না৷ এখানে যারাই আসেন তাদের সকল মনকামনা পূর্ণ হয়৷
এখান থেকে বেরিয়ে আমরা গেলাম ধার রোডের গ্রামে৷ এই গ্রামের একটি পুকুরে মানুষের শক্তির পূজো ভয় দেখলে রীতিমত ভয় লাগে৷ এখানে বেশ কিছু মহিলারা শ্রদ্ধায় বিভোর হয়ে নিজের জিভে তলোয়ার ঘোরাচ্ছিল৷ তাছাড়া অন্যান্য ভক্তরা তাদের শরীরে নানাভাবে আঘাত করছিল৷ এর সঙ্গে মধ্যপ্রদেশের আরও কয়েকটি শহরে আমরা এইরকম দৃশ্য দেখতে পেলাম৷ কোথাও গিয়ে দেখলাম কেউ নিজেকে দৃঢতার সঙ্গে দূর্গার অবতার বলছেন আবার কেউ নিজেকে কালীর স্বরুপ বলে দাবি করছেন৷ দেবী মায়ের কাছে ভক্তদের উন্মত্ত হয়ে রক্ত চড়ানোর এই ভয়াবহ প্রথাটি দেখে আমার হতচকিত হয়ে গেলাম৷ আমরা আত্রী মায়ের মন্দিরের কথা বলছি৷ নীমচ থেকে 60 কিমি দূরে এই মন্দিরটি অবস্থিত৷ এখানে যে ব্যক্তি মায়ের দরবারে জিভ চড়ান তাঁর সকল মনকামনা পূর্ণ হয়৷ এখানকার লোকেরা এই প্রথাকে খুব মানেন৷
এই প্রসঙ্গে এখানকার পুরোহিত বলেন যে এখনও পর্যন্ত 100 জন মায়ের দরবারে জিভ চড়িয়েছেন৷ এখানে জিভ চড়াচ্ছেন মনোহর স্বরুপ নামে এক ব্যক্তির ভাই আমাদের বলেন যে বিয়ের 12 বছর হওয়া সত্ত্বেও মনোহরের ঘরে কোন সন্তান হয় নি৷ তখন মনোহর আত্রী মায়ের কাছে মানদ করেন যদি তাঁর স্ত্রীর সন্তান হয় তাহলে তিনি আত্রী মায়ের কাছে জিভ চড়াবেন৷ মনোহরের মনকামনা পূর্ণ হয়ে গেছে তাই তিনি মায়ের কাছে জিভ চড়াতে এসেছেন৷ আমাদের উপস্থিতিতেই মনোহর জিভ কেটে মায়ের কাছে চড়িয়ে দেন৷
এখানকর প্রথা হল জিভ মায়ের কাছে চড়ানোর পর ভক্তকে মায়ের মন্দিরেই থাকতে হয়৷ আট থেকে দশ দিন মন্দিরে কাটানোর পর ভক্তরা তাদের জিভ পুণরায় ফিরে পায়৷ এর আগে প্রভাত দেব এখানে মায়ের কাছে তাঁর জিভ চড়িয়ে ছিলেন৷ তিনি আমাদের দৃঢতার সঙ্গে বলেছেন মায়ের কৃপায় জিভ চড়ানোর 10 দিনের মধ্যেই তিনি তাঁর জিভ পুণরায় ফিরে পেয়েছেন৷ জিভ চড়ানোর এই প্রথা দেখে আমরা আন্তরিক ভাবে খুবই মর্মাহত হলাম৷ কারণ এখানে দেবী মাকে সন্তুষ্ট করতে ভক্তদের শারীরিকভাবে কষ্ট পেতে হচ্ছে৷
মাকি এই ভাবেই ভক্তদের মনকামনা পূরণ করেন? উন্মাদের মত নাচগানরত ভক্তদের মধ্যে সত্যিই কি দৈবিক শক্তি প্রবেশ করে? এই সব প্রশ্নের উত্তর আমাদের কাছে নেই৷ এটা ঘটনাটা জেনে আপনারা কি ভাবছেন আমাদের লিখে পাঠান৷
|