মুখ্য পৃষ্ঠা >  ধর্ম > আস্থা অথবা অন্ধবিশ্বাস > নিবন্ধ
পরামর্শ বা প্রতিক্রিয়ামিত্রকে পাঠানএই পৃষ্ঠা প্রিন্ট করুন
 
আধুনিক যুগের অগ্নিযুদ্ধ
WDWD
আধুনিক যুগের অগ্নিযুদ্ধ
এমন এক পরম্পরা যাতে আহত হয়েছেন অনেক মানুষ

দীপাবলী উত্সবের রঙ বেরঙের আতসবাজির চমক ও কালিপটকা ও বোমের আওয়াজের পর ওয়েবদুনিয়া আপনাদের আর একটি দীপাবলীর সঙ্গে পরিচিত করবে৷ এই দীপাবলীতে আলো আছে, আগুনের ছটা আছে, তীব্র আওয়াজ আছে কিন্তু এর সঙ্গে রয়েছে যুদ্ধ৷ এখানে আমরা কথা বলছি মধ্যপ্রদেশের গৌতমপুরাতে যে যুদ্ধটা খেলা হয় সেই হিংগোট যুদ্ধ সম্বন্ধে৷

মধ্যপ্রদেশের গৌতমপুরাতে হিংগোট খেলাটি বংশপরম্পরায় খেলা হচ্ছে৷ এই খেলাটিকে যুদ্ধের আকারে পর্যভূষিত করা হয়েছে৷ এমনিতে এই যুদ্ধে প্রত্যেক বছরই অনেক মানুষ আহত হন৷ কিন্তু গ্রামবাসীদের এই খেলাটি সম্পর্কে উত্সাহ এতটুকু কমে না৷ এক দেড় মাস আগে থেকেই গ্রামবাসীরা এই যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে৷এই যুদ্ধের জন্য গ্রামবাসীরা কাঁটা ঝাড়ে যে হিংগোট ফল হয় সেই ফল সংগ্রহ করতে থাকে৷
WDWD


এরপর এই ফলের বীজের মধ্যে বারুদ ভরা হয়৷ এই বারুদ ভরা দেশী বোমকে ডান্ডা দিয়ে বেধে দেশী রকেটের রুপ দেওয়া হয়৷ এরপর দীপাবলীর পরের দিনটির জন্য গ্রামের বাচ্চা থেকে বুড়ো থেকে তরুন সবাই অপেক্ষা করতে থাকে৷ এই দিনটিতে যে খেলাটা হয় সেই খেলাটিকে হিংগোট যুদ্ধ নামে আখ্যা দেওয়া হয়েছে৷ এই যুদ্ধটি কলঙ্গা ও তুরা এই দুটো সম্প্রদায়ের মধ্যে খেলা হয়৷ এই যুদ্ধতে এই দুটি সম্প্রদায়ের মানুষেরা একে অপরকে অনবরত হিংগোট বর্ষন করতে থাকে৷ প্রত্যেক বছর এই অগ্নিযুদ্ধতে 40 থেকে 50 জন মানুষ আহত হন৷

WDWD
কিন্তু তা সত্ত্বেও গ্রামবাসীদের এই যুদ্ধের প্রতি আকর্ষন কমে না৷ পড়াশুনা এবং চাকরীর জন্য যারা গ্রামের বাইরে থাকেন এই হিংগোট যুদ্ধের সময় তারাও গ্রামে ফিরে আসেন৷ এই যুদ্ধ কবে এবং কি ভাবে শুরু হয়েছে সেই সম্পর্কে কেউ কিছু জানে না৷ কিন্তু প্রত্যেক বছর দীপাবলীর পরের দিন গ্রামবাসীরা সন্ধ্যা 5 টা থেকে এই যুদ্ধে খেলার জন্য মাঠে গিয়ে ভিড় করে৷ এখানকার মানুষরা এই যুদ্ধটিকে গভীরভাবে বিশ্বাস করে৷ এই যুদ্ধে অংশ নেওয়ার আগে এখানকার মানুষেরা গ্রামের মন্দিরে পূজো অর্চনা করেন৷ এই পূজো পাঠ করার পরই যুদ্ধ শুরু করা হয়৷

এই যুদ্ধ একবার শুরু হওয়ার পর ততক্ষন শেষ হয় না যতক্ষন না পর্যন্ত শেষ হিংগোটটি জ্বালানো হয়৷ কুড়ি বছর ধরে এই হিংগোট খেলছে কৈলাস আমাদের বলেছেন এই যুদ্ধটি ওদের গ্রামের পরম্পরা৷ এই যুদ্ধে ওরা অনেকবার আহত হয়েছে কিন্তু তা সত্ত্বেও ওরা এই খেলাটি ছাড়তে পারবে না৷ অপরদিকে রাজেন্দ্র কুমার বলেন যে তিনি গত একমাস ধরে হিংগোট সংগ্রহ করছেন এবং ওতে বারুদ ভরার কাজ করছেন৷ গত বছর একটা হিংগোট তাঁর মুখে লেগে গেছিল৷ এরফলে তাঁর মুখে 7 টা সেলাই করতে হয়েছিল
WDWD


কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি হিংগোট খেলা ছাড়তে পারবেন না৷ শুধু হিংগোট খেলাটিই নয়, হিংগোট তৈরী করাটাও খুব বিপদজ্জনক৷ যখন হিংগোট ফলে বারুদ ভরা হয় তখন ছোট খাটো দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে৷ এর সঙ্গে এই যুদ্ধ শুরু করার আগে সব যোদ্ধারা ভরপেট মদ খান৷ এরফলে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বেড়ে যায়৷ অনেক সময় এই যুদ্ধে অশান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়৷ এর থেকে বাঁচার্ জন্য ওখানে ভারি সংখ্যক পুলিশ এবং রেপিড অ্যাকশন ফোর্স মজুত রাখা হয়
WDWD


হিংগোট যুদ্ধের সময় গ্রামে উত্সবের পরিবেশ তৈরী হয়৷ গ্রামের অধিবাসীরা নতুন কাপড় পড়ে খুব আনন্দ করেন৷ কিন্তু একের পর এক দুর্ঘটনা বেশীরভাগ সময়ই গ্রামবাসীদের মনে দুঃখের ছায়া ফেলে যায়৷ এই ঘটনাটি জানার পর আপনারা এই ধরনের পরম্পরাটি সম্পর্কে কি ভাবছেন আমাদের জানান৷
ভিডিও দেখুন
অতিরিক্ত
আস্থার অন্ধ জোয়ার  
যেখানে বয় ঘিয়ের নদী  
নাড়ী জ্যোতিষের সাহায্যে জানুন নিজের ভবিষ্যত  
শিব মন্দিরে শিব লিঙ্গের রঙ বদলে যাচ্ছে  
শরীরে লোহার গরম রড দিয়ে চিকিত্সা  
দেবাসের মহাকালেশ্বর মন্দির