ম্যাসোনিক লজ ভুতের বাড়ি যার ভীত গড়েছিলেন রাজা সলোমন
আস্থা অন্ধবিশ্বাসের এই পর্বে আমরা আপনাদের একটি ভুড়ের বাড়ি দেখাবো৷ যদিও ভুত এই শব্দটি শুনলেই মনে ভয়ের উদ্রেক হয়৷ তবে পৃথিবীতে এমন ব্যক্তিও আছেন যারা ভুতে বিশ্বাস করেন না৷কিছুদিন আগে এক বন্ধুর কাছ থেকে জানতে পারি মহুতে একটা ভুতের বাড়ি আছে৷ রাতের কথা ছেড়ে দিন৷ দিনের বেলাও লোক এখানে আসতে ভয় পায়৷ এখানকার অধিবাসীদের কাছ থেকে জানতে পারি রাত্রিবেলায় এই বাড়িটার থেকে অদ্ভুত রকমের আওয়াজ আসে৷ এই সব কথা শোনার পর আমরা এই বাড়িটা পরিদর্শন করতে গেলাম৷
মহুতে পৌঁছানোর পর আমরা এই ভুতবাংলোর আশেপাশের অধিবাসীদের সঙ্গে কথা বলি৷ এখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে আমরা এই ম্যাসোনিক বাড়িটার রহস্য জানতে পারি৷ এই ম্যাসোনিক লজটার প্রতিষ্ঠাতা হলেন সম্রাট সলোমন৷ সলোমন ছিলেন রোম সাম্রাজ্যের সম্রাট৷ সারা বিশ্বে এই ম্যাসোনিক লজের প্রচুর শাখা আছে এবং এই ম্যাসোনিক লজটার সঙ্গে অনেক বুদ্ধিজীবি সম্প্রদায়ের লোক জড়িত আছে৷ এই লজের সদস্যদের সন্দিগ্ধ এবং রহস্য জনক আচরন এই লজের রহস্যকে আরও বাড়িয়ে দেয়৷ কিছু মানুষ মনে করেন এখানে তান্ত্রিক পূজো হয়৷ আবার কিছু মানুষ বিশ্বাস করেন এখানে পরলৌকিক বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা করা হয়৷ কারও কারও মতে এখানে ভুতের আরাধনা করা হয়৷
কিন্তু এই গুজব গুলোর পিছনে আসল সত্যটা কি? সেটা কেউ জানে না৷ এই রহস্যের উদ্ঘাটন করার জন্য আমাদের সাহায্য করেছে জেডী হালিবার৷ হালিবার হলেন এক স্কুলের প্রিন্সিপাল৷ জেডী হালিবার গত 22 বছর ধরে ম্যাসোনিক লজের সঙ্গে যুক্ত আছেন৷ তিনি আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে ম্যাসোনিক লজের অন্য কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি আমাদের ম্যাসোনিকের রহস্য জানাবেন৷ কারণ ম্যাসোনিক সমিতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা তাদের রহস্যের কথা কারো কাছে ব্যক্ত করেন না৷ তাঁরা গোপনীয়তা বজায় রাখেন৷ অনেক অনুনুয় বিনয় করার ফলে জেডি এবং জেডির সহকর্মীরা আমাদের এই লজের রহস্যের কথা জানান৷ এই ম্যাসোনিক লজের সদস্যরা আমাদের ওদের ম্যাসন মন্দিরে যাবার জন্য আমন্ত্রন জানান৷
যথা সময়ে আমরা সেখানে উপস্থিত হই৷ লজের চারপাশের পরিবেশ খুব নিরিবিলি ছিল৷ অন্ধকারের মধ্যে এই বাড়িটাকে দেখে সত্যিই ভয়াবহ বলে মনে হচ্ছিল৷ অল্প কিছুক্ষনের মধ্যেই ম্যাসন রাধামোহন মালবীয়, ম্যাসন মেজর বি এল যাদব, ম্যাসন কমল কিশোর গুপ্তা এসে উপস্থিত হন৷ এরপর লজের দরজা খোলা হয়৷ লজের মুখ্য হলটিতে প্রবেশ করতেই আমরা চমকে গেলাম৷ সেখানে একটি চোখের ছবি লাগানো ছিল৷ ম্যাসনরা এই চোখের পূজো করেন৷ হলের দেওয়ালে পুরোনো ম্যাসনিক সদস্যদের ছবি টাঙানো ছিল৷ এরপর আমরা ম্যাসোনিকদের মন্দিরে গেলাম৷ ম্যাসোনিকরা আমাদের বলেন এই মন্দিরটির ভীত গড়েছিলেন রাজা সলোমন৷ তবে এই মন্দিরে তারা কি করেন তার কথা এরা বাইরে প্রকাশ করেন না৷ এরা এটা অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে তাদের কাজ সম্পূর্ণ করেন৷
মন্দিরটি দেখানোর সময় কথায় কথায় ম্যাসোনিকদের এক সদস্য আমাদের এই লজটির সম্বন্ধে এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান৷ এটা জানার পর বুঝতে পারি মেসোনিক্স হওয়ার জন্য কিছু বিশেষত্ব থাকলেই আপনি ম্যাসোনিক্স হতে পারবেন৷ যে কোন মানুষ এই দলে সামিল হতে পারবে না৷ সবার প্রথমে যে নতুন ব্যক্তি এই ম্যাসোনিক্সদের মধ্যে যোগদান করে তাদের ডেকন বলে অভিহিত করা হয়৷ যখন সে যোগ্যতা অর্জন করে তখন তাঁকে সিনিয়র ডেকন নামে অভিহিত করা হয়৷ সিনিয়র ডেকনের পরে তাঁকে জুনিয়র এবং সিনিয়র ওয়ার্ডেন উপাধিতে ভূষিত করা হয়৷ এরপর সে ব্যক্তিটি ম্যাসনের পদ লাভ করে৷ এরপর পুরোকাজ শিখে গেলে তাঁকে ভার্চুয়ল মাস্টারের উপাধিতে ভূষিত করা হয়৷
ডেকন থেকে ম্যাসন হওয়ার জন্য এই লজের সদস্যদের তিনটি ডিগ্রী অর্জন করতে হয়৷ প্রথম ডিগ্রীতে বলা হয় যে সে একজন শ্রমিক৷ তাঁকে সুন্দরের নির্মান করতে হবে৷ অর্থাত সমাজের হিতে কিছু করতে হবে৷ দ্বিতীয় ডিগ্রীতে বলা হয় যে ভাল কাজ করলে আমাদের জীবন সুন্দর মন্দিরে পরিনত হয়৷ তৃতীয় ডিগ্রীতে বলা হয় জীবন নশ্বর৷ এছাড়া আরও বলা হয় যে মাটিতে কবর দেওয়ার পর মৃত কঙ্কালের মধ্যে কোন হাড়টা অবশিষ্ট থাকে৷ এই রহস্য জানার জন্য তারা মানুষের মুন্ড নিয়েও গবেষণা করে৷ এই সব অদ্ভুত ডিগ্রীর মাধ্যমে জীবনের জটিল রহস্যগুলোকে জানার জন্য ম্যাসোনিক লজ নিয়ে মানুষের মধ্যে ভ্রান্তির সৃষ্টি হয়৷ যখন আমরা এই ভ্রান্তির সম্বন্ধে ম্যাসনদের জিজ্ঞাসা করলাম তখন জানতে পারলাম সপ্তাহে একদিন গভীর রাতে এদের সভা হয়৷
এই সভা যখন হয় তখন তারা বেশী আলো জ্বালান না৷ অন্ধকারেই কাজ করেন৷ যখন আমরা দাবার গুটি এবং তলোয়াড়ের সম্বন্ধে জানতে চাইলাম তখন ওরা বলল ম্যাসোন মন্দির পাইথাগোরাস প্রনালীতে তৈরী করা হয়েছে৷ এছাড়া ওরা আরও বলেন যে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এই সদস্যরা তাদের গবেষণা করেন৷ সাধারন মানুষরা এটা বুঝতে পারেন না৷ এই ম্যাসোনিকদের সঙ্গে কথা বলে আমরা আরও জানতে পারি যে ম্যাসোনিকরা ভ্রাতৃত্ববোধে বিশ্বাস করেন৷ এরা অপরকে খুবই সাহায্য করে৷ এরা নিজেদের কাছে ঘর তৈরী করার সব সামগ্রীই রাখেন৷
এই সব সামগ্রীগুলো খুবই বিচিত্র৷ এগুলোকে দেখে মনে হয় এদের মধ্যে অনেক রহস্য নিহিত আছে৷ যখন আমরা মাইসনদের এইসব সামগ্রী গুলোর সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করি তখন ওরা বলে আগের দিনে এই সব সামগ্রীগুলি ঘর তৈরীর কাজে নিযুক্ত করা হত৷ সারা বিশ্বে বর্তমানে প্রায় 240 টি ম্যাসোনিক লজ আছে৷ এদের মুখ্য অফিসটি স্কটল্যান্ডে অবস্থিত৷ এই লজ গুলোকে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত৷ প্রত্যেক লজের একটা বিশেষ নাম্বার আছে৷ যেমন মহুর ম্যাসোনিক লজটির নাম্বার হল সেন্ট পল নং 389(এস সি )৷ এছাড়া আমরা এদের গুপ্ত মন্দিরটিতেও গেছি৷ এই লজের সমগ্র চিত্র লক্ষ্য করে আমাদের এটাই মনে হয়েছে এদের মধ্যে এখনও রহস্য আছে যা এরা জনসমক্ষে প্রকাশ করেন না৷ ম্যাসোনিক লজ সম্বন্ধে জেনে আপনারা এই লজ সম্বন্ধে কি ভাবছেন? আমাদের অবশ্যই জানাবেন৷
|