এই বারের আস্থা ও অন্ধ বিশ্বাসের পর্বে আমরা আপনাদের এমন একটি অদ্ভুত চিকিত্সা পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত করব যাতে কোন ওষুধ প্রয়োগ করা হয় না৷ এতে প্রয়োগ করা হয় লাথি, ঘুষি ও চর৷ আমরা আপনাদের সেই অদ্ভুত চিকিত্সাকে দেখাব৷ এই অদ্ভুত চিকিত্সাটি করেন ছত্তীশগড়ের মনসারাম নিসাদ৷ মনসারামের চিকিত্সার প্রধান অস্ত্র হল লাথি,ঘুষি আর থাপ্পড়৷
যখন আমরা মনসারামের এই অদ্ভুত চিকিত্সাটি সম্পর্কে জানতে পারি তখন আমরা ছত্তিশগড়ে মনসারামের সঙ্গে সাক্ষাত করতে যাই৷ ছত্তিশগড়ের রাজধানী রায়পুর থেকে প্রায় 75 কিমির মধ্যে দুর আর ধমতরী এই শহর দুটি অবস্থিত৷ এই শহর থেকে 35 কিমি দূরে লাড়ের গ্রামে মনসারাম থাকেন৷ আর এখানেই মনসারাম এই অদ্ভুত চিকিত্সাটি করেন৷ হাজার হাজার মানুষ মনসারামের কাছে চিকিত্সা করাতে আসেন৷ সেইজন্য মনসারামের কাছে যখন আমরা পৌঁছালাম তখন দেখলাম মনসারামের ওখানে প্রচুর মানুষের ভিড়৷ কিছুক্ষন পর মনসারাম একটা গাছের নীচে এসে বসে যান৷ তারপর তিনি রোগীদের লাথি, থাপ্পর মারতে শুরু করেন৷ প্রত্যেক রুগীরা চিকিত্সা করানোর জন্য লাইন দিয়ে দাড়িয়ে অপেক্ষা করছিল৷
মনসরাম দৃঢতার সঙ্গে বলেন তিনি যে কোন দুরারোগ্য ব্যাধিকে ঠিক করতে পারেন৷ মনসারামের সঙ্গে কথা বলে আমরা জানতে পারি মনসারাম প্রথম জীবনে কৃষক ছিলেন৷ তিন বছর আগে স্বপ্নে তিনি দেবী মার আশীর্বাদ লাভ করেন৷ দেবী মা তাঁকে স্বপ্নে দর্শন দিয়ে মানুষের দুঃখ দুর্দশা দূর করার নির্দেশ দেন৷ আর তখন থেকেই তিনি এই রকম অদ্ভুত প্রক্রিয়ায় চিকিত্সা করতে শুরু করেছেন৷ শুধু এই নয় মনসারাম আমাদের আরো জানালেন যে তিনি এক বছর ধরে অভুক্ত অবস্থায় আছেন৷ তিনি অনেক দেবী দেবতার আশীর্বাদ লাভ করে বিশেষ শক্তি অর্জন করেছেন৷
মনসারামের কাছে চিকিত্সা করিয়েছে এরকম অনেক রুগীর সঙ্গে আমরা কথা বললাম৷ তবে এদের মধ্যে অধিকাংশ মানুষই এখানে প্রথমবার চিকিত্সা করাতে এসেছিল৷ যারা এখানে প্রথমবার চিকিত্সা করাতে এসেছেন তারা তাদের বন্ধু এবং পরিচিত মানুষদের কাছ থেকেই এখানকার ঠিকানা জেনেছেন৷ মনসারাম প্রত্যেক রুগীকে এখানে অন্তত তিনবার ডাকেন৷ তিনি বলেন রোগকে পুরোপুরি ভাবে দূর করতে হলে এখানে তিনবার আসতেই হবে৷
ওখানে এমন কিছু রোগীকেও দেখতে পেলাম যারা মনসারামের কাছে চিকিত্সা করিয়ে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেছেন৷ তারা দৃঢতার সঙ্গে আমাদের বললেন যে তারা মনসারামের কাছে চিকিত্সা করিয়ে সুস্থ হয়েছেন৷ তবে এদের দেখে আমাদের মনে হল এরা মনসারামের প্রচারের জন্যই এই সব কথা বলছেন৷ তবে মনসারামের শিষ্যরা আমাদের জানালেন তিনি চিকিত্সা করতে কোন টাকা নেন না৷ তবে আমরা দেখলাম টাকা না নিলেও ভেট হিসাবে রোগীরা মনসারামের দরবারে অনেক কিছুই চড়ান৷
মনসারামের কাছে রোগীরা একবার নয় তিনবার আসেন৷ আর তিনবারই তারা প্রচুর ভেট মনসারামের দরবারে চড়ান৷ এখানে এত ভিড় হয় যে মনসারামের চিকিত্সালয়ের পাশে যে হোটেলগুলো আছে সেই হোটেলগুলোও খুব ভাল ব্যবসা করে৷ প্রতিদিন এই হোটেলগুলো দুই থেকে তিন হাজার টাকা উপার্জন করে৷ আমরা দেখলাম মনসারামের কাছে যে সব মানুষরা চিকিত্সা করতে এসেছেন তারা সকলেই অশিক্ষিত৷ স্বাস্থ্য সম্পর্কে কোন সঠিক জ্ঞানই এদের নেই৷এইজন্যই তারা মনসারামের দরবারে চলে আসেন৷ এই চিকিত্সা সম্পর্কে আপনারা কি ভাবছেন? আপনাদের মতামত আমাদের অবশ্যই জানাবেন৷
|