মুখ্য পৃষ্ঠা >  ধর্ম > আস্থা অথবা অন্ধবিশ্বাস > নিবন্ধ
পরামর্শ বা প্রতিক্রিয়ামিত্রকে পাঠানএই পৃষ্ঠা প্রিন্ট করুন
 
ইন্ডিয়ান রোবিন হুড

ShrutiWD
আস্থা ও অন্ধবিশ্বাসের এই বারের পর্বে আমরা আপনাদের একটা রহস্যময় ঘটনার কথা বলব৷ সরকার যদিও এই ঘটনার নায়কের কথা ভুলে গেছেন কিন্তু মধ্যপ্রদেশের মহু শহরের অধিবাসীদের মনে এই নায়কের অস্তিত্ব আজও বজায় রয়েছে৷ এটা একেবারে সত্যিকারের ঘটনা৷ আমরা আপনাদের টন্টয়া মামার কথা বলছি৷ যদিও তাঁর নাম আজ ইতিহাসের পাতাতেই শোভিত হচ্ছে কিন্তু তিনি আজও পাতালপানীতে অমর হয়ে রয়েছেন৷

টন্টয়া মামাকে আমরা নায়ক নামে অভিহিত করছি৷ বৃটিশ শাসনকালে জলগাঁও, সাতপুরা পাহাড়ি অঞ্চল থেকে শুরু করে মালবা আর মহু পর্য্ন্ত তিনি রাজত্ব করতেন৷ তাঁকে ইন্ডিয়ান রোবিন হুড নামে অভিহিত করা হয়৷ তিনি ইংরেজ সৈনিকদের হয়রান করে ছেড়েছিলেন৷ কথিত আছে ইংরেজ সৈন্যদের কাছ থেকে দ্রব্য সামগ্রী লুঠ করে তা তিনি গরীব আদিবাসীদের মধ্যে বিলি করতেন৷ ইংরেজরা টন্টয়া ভীলের লুঠপাঠের জন্য অত্যন্ত বিরক্ত এবং ক্রুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন৷ তাঁরা এতটাই বিরক্ত হয়ে পড়েছিলেন যে টন্টয়া ভীলকে ধরার জন্য পুরস্কার পর্য্ন্ত তারা ঘোষণা করেছিলেন৷ অনেকবার টন্টয়া ভীল পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিলেন৷
ShrutiWD


কিন্তু প্রত্যেকবারই তিনি পুলিশের চোখে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যেতে সমর্থ হন৷ তখনকার মানুষদের প্রচলিত বিশ্বাস এটাই ছিল যে গরীবের ত্রাতা টন্টয়া ভীলের কাছে রহস্যময় শক্তি আছে৷ কিন্তু একবার তিনি পুরোপুরি ভাবে ইংরেজদের জালে ধরা পড়ে যান৷ ইংরেজ সৈন্যরা টন্টয়া মামাকে পাতালপানী রেলওয়ে স্টেশনে গুলি করে হত্যা করে৷

টণ্টয়া ভীল তো মারা যান কিন্তু তাঁর আত্মা ঐ পাতালপানী রেলওয়ে স্টেশনে ঘুরতে থাকে৷ আর টন্টয়া মামার হত্যার পরই পাতালপানীতে ক্রমাগত দুর্ঘটনা ঘটতে থাকে৷ এই দুর্ঘটনাতে ইংরেজদের সৈন্যদের সঙ্গে বহু সাধারন মানুষও মারা যান৷ ক্রমাগত এই দুর্ঘটনা হতে দেখে সেখানকার অধিবাসীরা টন্টয়া মামার উদ্দেশ্যে এক মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন৷ তখন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত যে কোন ট্রেনই এই পাতালপানী দিয়ে যবার সময় কিছুক্ষন থেমে টন্টয়া মামার উদ্দেশ্যে প্রণাম শ্রদ্ধা জানিয়ে তারপর যাত্রা করে৷ কিন্তু

ShrutiWD
রেলওয়ের কর্মচারীরা এই ঘটনার সত্যতাকে একেবারে স্বীকার করেন না৷ তাঁরা বলেন এখান থেকে রেলের লাইন বদলানো হয়৷ পাতালপানী থেকে কলাকুন্ড পর্যন্ত রেলপথটি অত্যন্ত ভয়াবহ৷ তাই এখানে ব্রেক চেক করার জন্যই আমরা ট্রেনকে থামাই৷ আর এখানে যেহেতু মন্দির প্রতিষ্ঠা করা আছে তাই এখানে প্রণাম জানিয়েই আমরা ট্রেন চালনো শুরু করি৷ রেলওয়ের কর্মচারীরা যাই বলুক না কেন প্রতিবারই যে কোন ট্রেনকেই এখানে দাঁড় করানো হয়৷

এখানকার অধিবাসীরা বলেন যখন এখানে ট্রেন দাঁড় করানো হত না তখনই এখানে দুর্ঘটনা ঘটত৷ যবে থেকে ট্রেন দাঁড়াতে শুরু করেছে তখন থেকে আর দুর্ঘটনা ঘটে না৷ সেইজন্যই সব ট্রেন এখান দিয়ে যাবার সময় টন্টয়া মামার উদ্দেশ্যে প্রণাম জানিয়েই এখান দিয়ে যাত্রা করে৷মানুষের মৃত্যু হয় কিন্তু আত্মার কখনও মৃত্যু হয় না৷ আত্মা হল অমর৷ তাই টন্টয়া মামাও আজও পাতালপানীতে অমর হয়ে আছেন৷ আপনারা এই ঘটনাটি জেনে কি ভাবছেন? আপনাদের মতামত আমাদের অবশ্যই জানাবেন৷
ভিডিও দেখুন
অতিরিক্ত
মনসারামের অদ্ভুত চিকিত্সা  
করেড়ী বালী মা  
জালিকট্টু অমানবিক খেলা  
আয়াপ্পা ভিলাক  
ভগবান ভোলেনাথের জেল  
মহারাষ্ট্রের গ্রামে ভুতের মেলা