
ভগবান ভৈরব নাথ সুরা পান করেন৷ তাই ভৈরব নাথের মন্দিরে তাঁকে প্রসাদ হিসাবে মদিরা চড়ান হয়৷ তবে এই পর্বে আমরা এমন একটি কাহিনী বলব যা শুনলে হয়ত অবাক হবেন৷ দেবী মায়ের মদিরা পানের কাহিনী কখনও শুনেছেন৷ আপনাদের সামনে যেই মন্দিরটির চিত্র তুলে ধরবো তাতে ভৈরব নাথ নন দেবী মাকে প্রসাদ হিসাবে মদিরা চড়ান হয়৷ রতলাম শহর থেকে 32 কিমি দূরে সাতরুড়ার উচু টিলাতে মা কবলকা দেবীর মন্দিরটি অবস্থিত৷ এই মন্দিরের বিশেষত্বটা হল এখানে মা কবলকা, মা কালী এবং কালভৈরবের মূর্তি রয়েছে৷ এই দেব দেবীরা সকলেই মদিরা পান করেন৷ ভক্তরা মাকে সন্তুষ্ট করার জন্য প্রসাদ হিসাবে মায়ের কাছে মদিরা চড়ান৷ যখন এই মূর্তিগুলোর ঠোটের কাছে মদের পাত্রটা নিয়ে যাওয়া যায়৷ তখন সেই পাত্র থেকে মদটা যে কমে যাচ্ছে তা ভক্তরা প্রত্যক্ষ করতে পারেন৷ এখানকার পুরোহিত পন্ডিত অমৃতগিরি গোস্বামী জানান এটি হল 300 বছরের প্রাচীণ মন্দির৷ এখানে মায়ের যে মূর্তিটিকে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে তাঁর একটা বিশেষ মাহাত্ব্য রয়েছে৷ মা যে মদিরা পান করেন এই ঘটানাটা সত্যি৷ দূর দূর থেকে ভক্তরা এই মন্দিরে মাকে দর্শন করতে আসেন৷ মায়ের কাছে মানদ করেন৷ এই রকমই এক ভক্ত রমেশ জানালেন তাঁর মানদ সফল হয়েছে৷ তিনি মায়ের আশীর্বাদে পুত্রসন্তান লাভ করেছেন৷ তাই মাকে সন্তুষ্ট করার জন্য তিনি মায়ের দরবারে ছাগলের বলী দিচ্ছেন এবং পুত্রের চুল মায়ের কাছে চড়াচ্ছেন৷ মায়ের প্রসাদ স্বরুপ ভক্তদের বোতলে যে মদটুকু বাচে সেটাই দেওয়া হয়৷ মানদ পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পর অনেক ভক্তরা খালি পায়ে মায়ের এই মন্দিরটিতে আসেন৷ অপরদিকে মায়ের কাছে বলীও চড়ান৷ আমাবস্যা এবং নবরাত্রির সময়ে এখানে ভক্তদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়৷ আবার কিছু ভক্তরা ভুতপ্রেতের কবল থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যও মায়ের দরবারে আসেন৷ সত্যিই কি কোন মূর্তি মদ পান করতে পারে? না কি এটা মানুষের অন্ধবিশ্বাস৷ আপনারা এই বিষয়ে কি ভাবছেন? আপনাদের মতামত আমাদের অবশ্যই জানাবেন৷
|