মহারাজ কংস আকাশবানীর দরুন জানতে পেরেছিলেন যে দেবকীর অষ্টম গর্ভের সন্তান তাঁকে বধ করবে৷ সেইজন্য তিনি দেবকী ও বাসুদেবকে কারারুদ্ধ করেছিলেন৷ কৃষ্ণের জন্মের পূর্বে তিনি কারাগারের পাহারা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন৷
কিন্তু কোন পাহারাই এই যুগাবতারের আবির্ভাবকে আটকাতে পারেনি৷ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মের পর বাসুদেব গোকুলে তাঁর মিত্র নন্দের গৃহে কৃষ্ণকে রেখে আসেন৷ গোকুলে নন্দের গৃহে নন্দের পত্নী যশোধার কাছে কৃষ্ণ বড় হতে থাকেন৷ কংসের উদ্দেশ্য ছিল কৃষ্ণকে বধ করা৷
তাই কংস কৃষ্ণকে বধ করার জন্য তাঁর বোন পুতুনাকে ডাকেন এবং পুতুনাকে বলেন তুমি মায়াবী রুপে গোকুলে গিয়ে কৃষ্ণকে বিষ্ দুধ খাইয়ে হত্যা কর৷ কংসের আজ্ঞা পালন করার জন্য পুতুনা গোকুলের দিকে অগ্রসর হন৷ সেই সময় নন্দ কংসের কর দেওয়ার জন্য ও বাসুদেবের দেখা করবার জন্য মথুরাতে গিয়েছিলেন৷
গোকুলে পৌছানোর পর পুতুনা মায়ার বলে ষোল বছরের এক তরুনীর রুপ ধরেন৷ গোকুলে সবাই তাঁকে জিজ্ঞাসা করে তুমি কোথা থেকে আসছো? তুমি কে? তখন পুতুনা মিষ্টি সুরে উত্তর দেন আমি মথুরাতে থাকি৷ আমি এক ব্রাক্ষনের মেয়ে৷
আমি শুনেছি যে নন্দের বাড়ীতে পুত্র সন্তান জন্মেছে৷ এটা শোনার পর বাচ্চাটিকে দেখতে ও আশীর্ব্বাদ করতে এসেছি৷ আমি ওকে দেখে আশীর্ব্বাদ করে চলে যাব৷ ব্রাক্ষনের কন্যার মুখে এই কথা শুনে যশোদার হৃদয় আনন্দে ভরে উঠল৷ যশোদা শিশু পুত্রকে ব্রাক্ষনীর কোলে দিলেন৷
কৃষ্ণকে কোলে নেবার পর পুতুনা তাঁকে আদর করলেন এবং তাঁকে দুধ পান করানোর জন্য উদ্যত হলেন৷ কৃষ্ণকে বধ করার উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি প্রথমেই দুধে বিষ মিশিয়ে এনেছিলেন৷ কৃষ্ণকে দুধ খাওয়ানোর সময় তিনি যশোধাকে বলেন তোমার পুত্র খুব সুন্দর৷
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এই বিষ মিশ্রিত দুধকে অমৃত সুধা মনে করেই পান করলেন৷ এরপর পুতুনা মৃত্যুর পথে ধাবিত হলেন৷ পৃথিবীর মাটিতে য্খন তাঁর দেহ পড়ল তখন তাঁর বোঝা গেল যে তিনি রাক্ষসী৷ এইভাবে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পুতুনা রাক্ষসীকে বধ করেছিলেন৷
|