একবার কংস কৃষ্ণকে বধ করবার পরম প্রতাপশালী দৈত্য তৃণাবর্তকে গোকুলে পাঠান৷ তৃণাবর্ত য্খন গোকুলে পৌছান কৃষ্ণ তখন উঠোনে খেলা করছিলেন৷ তৃণাবর্ত তখন ঘূর্ণিঝড়ের আকার ধারন করে কৃষ্ণকে উড়িয়ে নিয়ে যান৷
সেই সময় গোকুলে এমন প্রচন্ড ঝড় উঠে যে চারিদিক অন্ধকার হয়ে যায়৷ সেই সময় যশোধা উঠোনে কৃষ্ণকে না দেখতে পেয়ে ভয় পেয়ে যান৷ তিনি মূর্ছিত হয়ে পড়েন৷জ্ঞান ফিরে আসার পর কৃষ্ণকে না পাওয়ার জন্য যশোধা কাঁদতে শুরু করেন৷ যশোধার কান্না দেখে গ্রামের অন্য গোপিনীরাও কাঁদতে শুরু করেন৷
সবাই তখন কৃষ্ণকে খুঁজতে শুরু করেন৷ কৃষ্ণকে দানব তৃণাবর্ত আকাশ থেকে দশ যোজন উপরে নিয়ে যান৷ কৃষ্ণ বসেছিলেন দৈত্যটির কাঁধের উপরে৷ সেই তৃণাবর্তের দেহ সুমেরু পবর্তের থেকেও ভারী হয়ে গেল৷ এত ওজন দৈত্যটি সহ্য করতে পারলো না৷
তখন দানবটি কৃষ্ণকে নীচে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করল৷ কিন্তু কৃষ্ণ তৃণাবর্তের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে খুব জোরে তৃণাবর্তের গলা টিপে ধরলো৷ তখান ঐ দৈত্যটির মুখ থেকে একটি শব্দই বার হল৷ দানবটি করুন ভাবে বললো আমাকে ছেড়ে দাও৷
কিন্তু কৃষ্ণ এতজোরে গলা টিপে ধরেছিলেন যে এতে তৃণাবর্ত প্রাণ হারালেন৷ কৃষ্ণের দেহ থেকে তখন একপ্রকার জ্যোতি বেরোলো৷ মেঘের মধ্যে বিদ্যুত যেমন বিলীন হয়ে যায় সেই জ্যোতি কৃষ্ণের দেহে সেই রকম ভাবে বিলীন হয়ে গেল৷
আকাশ থেকে সেই দৈত্যর শরীর মাটিতে এক পাথর খন্ডের উপর গিয়ে পড়ল৷ মাটিতে পড়ার সঙ্গেই চর্তুদিক কেঁপে উঠল৷ সেই সময় সব গোপীনিরা ঐ দানবের পিঠের উপর কৃষ্ণকে বসে থাকতে দেখেন৷ কৃষ্ণকে সুরক্ষিত দেখে সবাই চিন্তামুক্ত হন৷ ভগবান শ্রী কৃষ্ণের মহিমা অসীম৷ তিনি জগতের স্রষ্টা ও রক্ষাকর্তা৷
|