একবার ভগবান শিব ও পার্বতী নর্মদা নদীর তীরে বেড়াতে যান৷ সেখানে এক জায়গায় দেবী পার্বতী মহাদেবের সঙ্গে পাশা খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন৷ তখন ভগবান শিব বলেন যে আমাদের খেলার হার জিতের সাক্ষী কে হবে?
দেবী পার্বতী তখন ওখান থেকে ঘাস একত্র করে একটি পুতুল বানান এবং ঐ পুতুলটির মধ্যে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন৷ প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়ে যাবার পর দেবী বলেন বাছা, আমরা এখানে পাশা খেলব৷ কিন্তু আমাদের মধ্যে কে হারবে এবং কে জিতবে সেটা দেখার কেউ নেই৷ তুমি সাক্ষী হয়ে খেলার শেষে বলবে কে হারল আর কে জিতল? খেলা শুরু হল৷ দৈবিক বলে তিন বারই দেবী পার্বতী জেতেন৷
কিন্তু খেলার শেষে যখন বালকটিকে জিজ্ঞাসা করা হল কে জিতেছে? তখন বালকটি বলল বিজয়ী হয়েছেন ভগবান শিব৷ বালকের কথা শুনে পার্বতী ক্রুদ্ধ হয়ে বালকটিকে অভিশাপ দিলেন৷ তিনি বললেন তুই এক পায়ে ল্যাংড়া হয়ে থাকবি এবং নোংরায় থেকে দুঃখ ভোগ করবি৷ বালকটি তখন বলল মা আমি না বুঝতে পেরে এরকম বলেছি৷ আমি কোন ছল করে এরকম বলি নি৷ আমায় ক্ষমা করে দাও এবং এই অভিশাপ থেকে কি করে মুক্তি পাব তার রাস্তাও বলে দাও৷
বালকের কথা শুনে দেবী পার্বতীর দয়া হল৷ তিনি বালককে বললেন এখানে নাগ কন্যারা গণেশ পূজো করতে আসবে৷ তাদের উপদেশ নিয়ে গণেশ পূজো করলে তুমি এই অভিশাপ মুক্তো হবে৷ এই বলে দেবী মা কৈলাস পর্বত চলে গেলেন৷ এক বছর পর শ্রাবণ মাসে নাগ কন্যারা গণেশ পূজো করতে আসে৷ নাগ কন্যারা বালকটিকে গণেশ পূজোর সব বিধি বলে দেন৷ সেই সময় বালকটি 12 দিন ধরে ভগবান গনেশের ব্রত করেন৷
বালকটির তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে ভগবান গণেশ বালকটিকে দর্শন দিয়ে বলেন আমি তোমার সাধনায় সন্তুষ্ট হয়েছি৷ তুমি আমার কাছে কি বর চাও? আমি তোমার মনস্কামনা পূর্ণ করব৷ তখন বালকটি বলল ভগবান তুমি আমার পায়ে এত শক্তি দাও যে আমি যেন কৈলাস পর্বতে যেতে পারি এবং ওখানে গিয়ে আমি আমার মাতা পিতাকে যেন খুশী করতে পারি৷ এরপর ভগবান গণেশ বালকটিকে সেই আশীর্ব্বাদ দিয়ে অন্তর্ধান হয়ে গেলেন৷ তারপর বালকটি ভগবান শিবের কাছে কৈলাসে গেলেন|
শিব তখন বালকটিকে তাঁর সাধনার কথা জিজ্ঞাসা করলেন৷ বালকটি তখন শিবকে সব কথা বললেন৷ সেই সময় দেবী পার্বতীও কোন কারণে ভগবান শিবের উপরে ক্রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন৷ ভগবান শিবও পার্বতীর রাগ কমানোর জন্য 21 দিন পর্যন্ত গণেশজীর উপোস করেছিলেন৷ এরফলে পার্বতী স্বয়ং মহাদেবের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং তিনি কৈলাসে চলে আসেন৷ কৈলাসে এসে পার্বতী মহাদেবকে বলেন আপনি কি করেছেন যার ফলে আমি আপনার কাছে দৌড়ে দৌড়ে চলে এলাম৷
শিবজি তখন দেবীকে গণেশজীর ব্রতর কথা বলেন৷ তখন পার্বতী তাঁর পুত্র কার্তিকের সঙ্গে দেখা করার জন্য 21 দিন ধরে গণেশজীর উপোস করেন৷ তিনি 21টা দূর্বা, 21টা ফুল, আর 21টা লাড্ডু দিয়ে গণেশজীর পূজো করেন৷ 21 দিন উপোসের মাথায় কার্তিক স্বয়ং দেবী পার্বতীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন৷ কার্তিকও তাঁর মায়ের মুখে এই ব্রতর কথা শুনে তিনিও এই ব্রত করেন৷
কার্তিকের কাছ থেকে সব শুনে বিশ্বামিত্রজী এই ব্রত করে গণেশজীর কাছে ব্রহ্ম ঋষি হবার বর চান৷ গণেশজী বিশ্বামিত্রের মনোকামনা পূর্ণ করেন৷ এইভাবেই গণেশজী সকলের মনোকামনা পূর্ণ করেন৷ ভক্তি এবং শ্রদ্ধার সঙ্গে ভগবান গণেশের পূজো করলে সকল আশা পূর্ণ হয়৷
|