ধর্মকে নাশ করা ভীষণ কঠিন...
বনের মধ্যে ঘুরতে ঘুরতে পান্ডবরা জলের তৃষ্ণায় ব্যাক্য্ল হয়ে একটি বড় গাছের নিচে বসে পড়ে৷ নকুল জল আনতে গেল৷ কিছুদূরে যাওয়ার পরেই একটি দীঘির দেখা পায়৷ সেই দীঘিতে পা রাখতেই আকাশবাণী হয়, তাতে শোনা যাচ্ছে যে, প্রথমে আমার প্রশ্নের উত্তর দাও এবং তারপরে জল নাও৷ নকুল এই কথা শুনেও না শোনার ভান করে এবং জল পান করতে শুরু করে৷ সেই জল পান করতেই তাঁর মৃত্যু হয়৷ একই দশা সহদেবেরও হয়৷ অর্জুন ও ভীমেরও হয়৷ সর্বশেষে যুধিষ্ঠীর | | যুধিষ্ঠীরের এমন ধর্মের প্রতি নিষ্ঠা দেখে কুকুর নিজের আসল রূপ ধারণ করে, আসলে কুকুরের রূপে স্বয়ং ধর্মরাজ উপস্থিত ছিলেন৷ তাঁর ধর্মের নিষ্ঠায় অত্যন্ত খুশি হয়ে স্বয়ং ধর্মরাজ নিজের কাঁধে করে যুধিষ্ঠীরকে স্বর্গে নিয়ে যান৷ |
| |
আসেন৷ যুধিষ্ঠীর যক্ষের সব প্রশ্নের উত্তর দেন৷ তখন যক্ষ বললেন- ' আমি তোমার উপরে খুব প্রসন্ন হয়েছি, চার ভাইয়ের মধ্যে তুমি কার প্রাণ ফিরে পেতে চাও? আমি তাকেই জীবিত করব৷' যুধিষ্ঠীর বললেন, 'আমার সবথেকে ছোটো ভাই নকুলকে জীবিত করে দিন৷' যক্ষ বললেন- তোমাকে কৌরবদের সঙ্গে লড়াই করতে হবে, অর্জুন-ভীম বীরযোদ্ধাদের ছেড়ে তুমি কেন নকুলের মোহে পড়ে তাঁকে জীবিত করতে চাইছ? যুধিষ্ঠীর বললেন - মোহ নয়, ধর্মের জন্য জীবিত করতে বলছি, ধর্মকে নাশ করে যে সে নষ্ট হয়ে যায়৷ আমি ধর্ম ছাড়ি না৷ আমার দুটি মাতা ছিলেন- কুন্তী ও মাদ্রী৷ কুন্তীর পুত্র যে আমি একজন, আমি তো জীবিত রয়েছি, মাদ্রীরও একটি সন্তান জীবিত থাকুক৷ তাহলে দুটি মাতাই পুত্রবতী থাকবেন৷ আমার দুটি মাতারই দৃষ্টি সমান৷ এঁদের সমতাই সর্বোত্তম ধর্ম৷ তখন যক্ষ বললেন- আমিই ধর্ম, তোমার পরীক্ষা নিচ্ছিলাম- তুমি ধন্য৷
যুধিষ্ঠীরের সকল সময়ে ধর্মের চিন্তা করেই কেটে যেত৷ ধর্মের জন্য তিনি কাউকে তোয়াক্কা করতেন না৷ ধর্মকেই তিনি মহান মনে করতেন৷ মহাভারতের যুদ্ধ জয় করার পরে তিনি মহারাজা হলেন, কিন্তু রাজকার্জে তাঁর মন লাগেনি৷ শেষে বিরক্ত হয়ে তিনি দ্রৌপদী ও নিজের চারজন ভাইকে সঙ্গে করে নিয়ে হিমালয়ে চলে যান৷ যখন তিনি হিমালয়ে চড়ছিলেন তখন ক্রমশ: দ্রৌপদী, নকুল, সহদেব, ভীম, অর্জুন সকলেই এক একে করে বরফের পিছলে পড়ে যায় এবং তাঁদের মৃত্যু হয়৷ হঠাত যুধিষ্ঠীর যখন পিছন ফিরে দেখেন দেখছেন যে, তাঁরা কেউই পিছনে নেই৷ একটি কুকুর তাঁর সঙ্গে সঙ্গে ছিল৷ সে পড়ে যায়নি৷ সর্বশেষে দেবরাজ রথ নিয়ে তাঁর কাছে আসে এবং যুধিষ্ঠীরকে বললেন, 'আপনি আপনার ধর্মের প্রভাবে এই রথে বসে স্বশরীরে স্বর্গে চলুন৷' প্রত্যুত্তরে যুধিষ্ঠীর বললেন- আমি এই সত্য সঙ্গী কুকুরকে সঙ্গে নিতে চাই কারণ সর্বশেষ পর্যন্ত আমার সঙ্গে রয়েছে৷ আমি ওকে ছাড়া স্বর্গে যাব না৷ দেবরাজ যুধিষ্ঠীরকে অনেক বোঝালেন যে কুকুর আপনার সঙ্গে কেমন করে স্বর্গে যেতে পারে৷ কিন্তু যুধিষ্ঠীর নিজের ধর্মে অটল রইলেন৷ আর বললেন- আমি আমার ধর্ম ছাড়তে পারি না, আমি শরণাগতকে কখনও একা ছেড়ে দিই নি, স্বর্গকে ছেড়ে দিতে পারি৷ যুধিষ্ঠীরের এমন ধর্মের প্রতি নিষ্ঠা দেখে কুকুর নিজের আসল রূপ ধারণ করে, আসলে কুকুরের রূপে স্বয়ং ধর্মরাজ উপস্থিত ছিলেন৷ তাঁর ধর্মের নিষ্ঠায় অত্যন্ত খুশি হয়ে স্বয়ং ধর্মরাজ নিজের কাঁধে করে যুধিষ্ঠীরকে স্বর্গে নিয়ে যান৷
|