মুখ্য পৃষ্ঠা   ধর্ম  হিন্দু  তীর্থক্ষেত্র
 
রুদ্রনাথ
শিলাদিত্য ভাদুড়ী
এটি পঞ্চকেদারের একটি কেদার৷ প্রায় 2290 মিটার উঁচুতে অবস্থিত৷ কল্পনা করা হয় এটাই হল মহাদেবের মুখ৷ এখানে নন্দীকেই মহাদেব রুপে কল্পনা করা হয়৷ বৈতরনী নদীর উত্পত্তী হয়েছে এখান থেকেই৷ এখানে তীর্থ করতে হলে কঠোর প্ররিশ্রমের সম্মুখীন হতে হয়৷ পায়ে হেঁটে প্রায় 18-20 কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয় গোপেশ্বর থেকে৷ এখানে কোনো ঘোড়া বা ডুলি পাওয়া যায় না, তাই সম্পূর্ন পায়ে হেঁটেই তীর্থ সফল করতে হয়৷

এখান থেকেই দর্শন মেলে নামী দামী বেশ কিছু শৃঙ্গের৷ তাদের মধ্যে নন্দাঘুণ্টি, নন্দাদেবী, ত্রিশূল, হাতি, ঘোড়ী প্রমূখ শৃঙ্গগুলিকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে দেখতে পাওয়া যায়৷ শুধু শৃঙ্গ নয় মন্দিরের চারপাশে রয়েছে পবিত্র মানস কুন্ড, সূর্য কুন্ড, চন্দ্র কুন্ড, তারা কুন্ড ইত্যাদি৷ এখান থেকে প্রায় 3-4 কিলোমিটার দূরে রয়েছে অনুসূয়া দেবীর মন্দির৷

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পর পান্ডবরা তাদের পরিবার বর্গকে হারিয়ে যখন মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত, তখন তারা মহাদের কাছে নিজেদের সমার্পন করেন৷ কিন্তু মহাদেব পান্ডবদের কোনোরকম সাহায্য করতে সমপূর্ণ ভাবে বিরুপ ছিলেন৷ পরে পান্ডবদের থেকে নিজেকে বাঁচাতে মহাদেব নন্দী নামক এক ষাঁড়ের ছদ্দবেশ ধারণ করেন৷ কিন্তু পান্ডবেরা তাঁর এই ছদ্দবেশ ধরে ফেললে মহাদেব পাতালে বা মর্তে প্রবেশ করতে শুরু করেন৷ এমত অবস্থায় পান্ডবেরা তাঁকে ধরে ফেলেন৷ আর তার পর থেকেই ষাঁড়ের দেহের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন স্থানে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে৷ এই রুদ্রনাথে মেলে তাঁর মুখমন্ডল৷ এর পর এখানে গড়ে ওঠে মন্দির৷ মন্দিরের গর্ভগৃহে স্থাপিত আছে নন্দীর মূর্তী৷ শুধু পঞ্চকেদারে নয় নেপালের পাওয়া যায় তাঁর সামনের পা গুলি, এবং সেখানে গড়ে ওঠে পশুপতিনাথের মন্দির৷
অতিরিক্ত
শ্রী কেদারনাথধাম
হরিদ্বার
মদমহেশ্বর
কল্পেশ্বর
শ্রী বদ্রীনাথধাম
তারাপীঠ দর্শন