জৈন্য ধর্মের প্রধান প্রচারক হিসাবে যার নাম সবার আগে আসে তার নাম হল মহাবীর৷ এই ধর্মের সবথেকে মহাত্মা ব্যাক্তি হিসাবে তার নাম সবার আগে আসে৷ তিনি ছিলেন একেবারে অহিংস ধরনের মানুষ৷ আজ থেকে বহু বছর আগে বৈশালীতে এই মহান পুরুষের জন্ম হয়৷ তার পিতার নাম ছিল সিদ্ধার্থ৷ তিনি পরিবারের একমাত্র সন্তান ছিলেন না তিনি পরিবারের তৃতীয় সন্তান ছিলেন৷ জন্মের পার থেকেই তার মধ্যে ধীরে ধীরে ধর্ম চিন্তা ভাবনা গড়ে উঠতে থাকে৷
তিনি তার জীবনের কোনো সময়েই হিংসা কে পছন্দ করতেন না৷ তার বয়্স সামান্য বাড়ার পর থেকেই পড়শুনা ছারাও অন্যান্য বিষয়েও পারদর্শী হয়ে উঠে ছিলেন তবে তার মন কিন্তু তখন থেকেই অন্য বিষয়ের প্রতি মানে ধর্মিক ও অহিংসা মূলক ভাবনা চিন্তার দিকেতেই আকৃষ্ট হতে থাকে৷ এমন কে তিনি পশু বলীএবং ধর্ম, জাতি, বর্ণের নামে ভেদাভেদ কে একেবাড়েই ঘৃনার চোখেতে দেখতেন৷ তিনি তার সকল চিন্তা ভাবনার দ্বারা জৈন্য ধর্মের ভিত্তিপ্রস্থ স্থাপন করেছিলেন৷
তবে ধর্মের মধ্যে সব থেকে বেশী প্রধান্য দেওয়া হয়েছে অহিংসা৷ মহাবীর তার মহানুভতার জন্য বিভিন্ন নামে পরিচিত হয়ে ছিলেন যেমন বর্ধমান, অতিবীর, সম্মতি৷ তার পিতা মাতার মৃত্যূর পর থেকেই তার ধর্ম ভাবনার বিকাশ হতে থাকে৷ তিনি এর পর দীক্ষা নেন৷ এরপর সম্পূর্ন ভাবে প্রায়সই ধ্যান মগ্ন হতে থাকেন৷ দীর্ঘ সময় কাল ধরে তিনি ধ্যান মগ্ন থাকেন৷
জৈন্য ধর্মের নিয়মের মধ্যে মূল গুরূত্বপূর্ণ বিষয়গুলি হল ত্যাগ, সত্যতা, নিষ্ঠা এবং প্রেম ও করুনা৷ জৈন্য ধর্মের জন্য শ্রমণ, শ্রমণী গঠন করা হয়৷ এরপর শ্রাবক ও শ্রাবিকা জাতীয় সংঘ গঠন করা হয়৷ এই ধর্ম আনেক বাস্তবিক মানসিকতা সম্পন্ন৷ যেকোনো বর্গের মানুষই এই ধর্মের সিদ্ধান্ত কে মেনে নিয়ে সেটিকে পালন করতে পাড়েন৷
জৈন্য ধর্মের আরো কয়েকটি প্রধান উপদেশে হল আচার্যকে সম্মান দেওয়া এবং সাধুদের কে উপযুক্ত সম্মান দেওয়া৷ এই ধর্মের প্রসার ও বিকাশের জন্য বছর বছর ধরে জৈন্য তীর্থঙ্করেরা তাদের জীবনকে উত্সর্গ করে গেছেন৷ এই তীর্থঙ্করদের কে ভগমানের স্বয়ং মূর্তি বলে গন্য করা হয়৷ জৈন্য ধর্মে 24 জন তীর্থঙ্করের কথা জানা যায়৷ প্রথম তীর্থঙ্কর হিসাবে শৃষ্পভনাথজীর কথা জানা যায়৷
যারা জৈন্য ধর্মকে মেনে চলে তাদের প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায় একটি হল দিগম্বর এবং অরেকটি হল শ্বেতাম্বর৷ দিগাম্বর প্রকৃতির সাধুরা কোনো প্রকার কাপড় পরিধান করেনা এবং শ্বেতাম্বর প্রকৃতির সাধুরা সাধারনত সাদা কাপড় পড়ে থাকে৷ মহাবীরের বাণীগুলী কে তার শিষ্যরা একটি পুস্তকের আকারেতে তৈরি করেছিলেন৷
|