ভগবান শিবের দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গর মধ্যে একটি হল ত্রংকারেশ্বর মহাদেব মন্দির৷ এই পবিত্র জ্যোতির্লিঙ্গ নাসিক থেকে কমপক্ষে 35 কিমি দুরে ত্রেম্বক গ্রামে অবস্থিত৷ এই গ্রামের ভিতর পা দেওয়া মাত্রই মন শিবভক্তিতে লীন হয়ে যায়৷ পুরো বাতাবরণ মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রের উচ্চারণে গুজীত হয়৷
ফটো গ্যালারী দেখার জন্য এখানে ক্লিক করুন
গ্রামের ভিতর কিছু দুর হেঁটে চলার পরই মন্দিরের মূখ্যদ্বার নজর আসে৷ ত্রংকারেশ্বর মহাদেব মন্দির সুন্দর ইমারত সিন্ধু-আর্য শৈলীর উত্কৃষ্ট নমুনা৷ মন্দিরের ভিতর গর্ভগৃহের ভিতর প্রবেশ করার পর শিবলিঙ্গের কেবল আর্ঘা দেখা যায়, শিবলিঙ্গ নয়৷
ভাল করে পর্যবেক্ষণ করার পর আর্ঘার ভেতর এক এক ইঞ্চির 3টি লিঙ্গ দেখা যায়৷ এই লিঙ্গগুলি ত্রিদেব মানে ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহাদেবের অবতার মানা হয়৷
ভোরের সময় পুজা হওয়ার পর এই আর্ঘার উপর পঞ্চমুখী রুপার মুকুট পরানো হয়৷ এই প্রাচীন মন্দিরের পুনর্নিমাণ তৃতীয় পেশোয়া বালাজী অর্থাত্ নানাসাহেব পেশোয়া করিয়েছিলেন৷
এই মন্দিরের পুনর্নিমাণ শুরু হয় 1755 সালে এবং মোট 31 বছর পর 1786 সালে গিয়ে এটা শেষ হয়৷ শোনা যায় যে এই সুন্দর মন্দিরের পুনর্নিমাণ করার জন্য প্রায় 16 লাখ টাকা খরচ হয়েছিল৷ তখনকার সময়ে 16 লাখ টাকার মূল্য অনেক বেশি ছিল৷
ত্রংকারেশ্বর মহাদেব মন্দির গ্রামের ব্রহ্মগিরি পর্বতের শিখরে অবস্থিত৷ এই পর্বতকে ভগবান শিবের সাক্ষাত্ রুপ মানা হয়৷ এই পর্বতের উপর থেকে পবিত্র গোদাবরী নদী বয়ে চলেছে৷ এর সম্বন্ধে বলা হয় -
'প্রাচীন কালে ত্রম্বক গৌতম ঋষির তপভূমি ছিল৷ নিজের উপর থেকে গোহত্যার পাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য শিবের তপস্যা আরম্ভ করেন৷ ভগবান শিব তপস্যায় খুশী হয়ে গৌতম ঋষিকে বরদান করতে চান৷ গৌতম ঋষি তখন শিবের কাছে এখানে গঙ্গা অবতরণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন৷ এর ফল স্বরুপ দক্ষিণের গঙ্গা মানা হয় গোদাবরী নদী এর উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে৷ - দন্ত কথা
গোদাবরী নদী প্রবাহিত হওয়ার পর গৌতম ঋষি ভগবান শিবের কাছে অনুনয়-বিনয় করেন এখানে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য এবং ভগবান শিব তাঁর কথা মেনে এই মন্দিরে অবস্থান করেন৷ ত্রি-নয়ন ভগবান শিব এখানে বিরাজমান হওয়ার কারণে এই জায়গার নাম ত্রম্বক রাখা হয়৷
উজ্জয়ন এবং ওংকারেশ্বরের মত ত্রংকারেশ্বর মহারাজকে এই গ্রামের রাজা মানা হয়৷ এই কারণে প্রত্যেক সোমবার ত্রংকারেশ্বর মহারাজকে পঞ্চমুখী সোনার মুখোট সহ পালকীতে বসিয়ে সারা গ্রামে ঘোরানো হয়৷ এরপর কুশাবর্ত তীর্থ স্থিত ঘাটে স্নান করানো হয়৷
এরপর মুখোটকে মন্দিরে নিয়ে গিয়ে তাঁকে হীরে জড়িত স্বর্ণ মুকুট পড়ানো হয়৷ এই পুরো দৃশ্যটা ত্রম্বক মহারাজের যেন রাজ্যাভিষেক মনে হয়৷ এই যাত্রাটা দেখত্রে পাওয়া যেন অলৌকিকতার সমান অনুভব হয়৷
'কুশাবর্ত তীর্থর জন্মকথা খুব মজাদার৷ শোনা যায় ব্রহ্মগিরী পর্বত থেকে গোদাবরী নদী বার বার লুপ্ত হয়ে যেত৷ গোদাবরীর পালানোটা রোখার জন্য গৌতম ঋষি এক কুশার সাহায্যে গোদাবরী বেঁধে বাঁধ দেন৷ এরপর থেকে এই কুন্ডেতে সর্বদা জল থাকে৷ এই কুন্ডটাকে কুশাবর্ত তীর্থ নামে জানা যায়৷ কুম্ভ স্নানের সময় ভগবান শিব এখানে শাহী স্নান করেন৷ - দন্ত কথা শিবরাত্রি ও শ্রাবণ সোমবারের সময় ত্রংকারেশ্বর মহাদেব মন্দিরে ভক্তদের প্রচন্ড ভীড় লেগে থাকে৷ ভক্তরা ভোরবেলা স্নান করে নিয়ে তাদের আরাধ্য দেবতার দর্শন করেন৷
এখানে কালসর্প যোগ এবং নারায়ণ নাগ বলী নামে খাস পুজা-অর্চনা হয়৷ আর এই কারণে এখানে সারা বছর লোক আসা যাওয়া করতে থাকে৷
|