মহাকাল বা শিব নগরী উজ্জ্বয়নীকে মন্দিরের শহর বলা হয়৷ এই শিব নগরীতে প্রত্যেক গলিতে একটা করে নতুন মন্দির আছে, কিন্তু এত মন্দিরের ভিতর থেকে নাগচন্দেশ্বর মন্দির সবার থেকে আলাদা৷
মহাকাল মন্দিরের শিখরের উপর অবস্থিত এই মন্দিরের একটা আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে সেটা হল এই মন্দিরের দরজা বছরে মাত্র একবার খোলে৷ এই মন্দিরের দরজা নাগ পঞ্চমীর দিন খোলে৷ আর এই কারণে নাগরাজ তক্ষকের দর্শন খুব দুর্লভ মানা হয়৷
ফটোগ্যালারী দেখার জন্য এখানে ক্লিক করুন
মন্দিরের দরজা খোলা মাত্র বহুদুর থেকে আসা ভক্তদের প্রচন্ড ভীড় লেগে যায়৷ এক সমীক্ষার মতে শুধুমাত্র এই দিনে খোলার কারণে মাত্র 24 ঘন্টাতে প্রায় দেড় লক্ষ ভক্ত নাগরাজের দর্শন করে৷
মন্দিরে ভগবান শিবশম্ভুর একটি অদ্ভুত প্রতিমা বিরাজমান৷ এই প্রতিমাতে ভগবান শিব তাঁর পুরো পরিবারের সঙ্গে নাগ সিংহাসনে বিরাজমান৷ মানা হয় পুরো পৃথীবিতে একমাত্র এটাই মন্দির যেখানে ভগবান বিষ্ণুর জায়গায় ভগবান শিব নাগ শয্যাতে বিরাজমান৷
মন্দিরের স্থাপিত প্রাচীন মূর্তিতে ভগবান শিবের সঙ্গে গণেশ ও মাতা পার্বতী দশমুখী নাগ শয্যাতে বিরাজমান৷ ভগবান শিবের গলায় ও হাতেতে সাপ লিপটে রয়েছে৷
বলা হয় নাগরাজ তক্ষক শিবশংকরকে মানানোর জন্য ঘোর তপস্যা করেছিল৷ তপস্যাতে ভগবান শিব খুবই প্রসন্ন হয় এবং তিনি সাপেদের রাজা তক্ষককে অমরত্ব প্রদান করেন৷ মানা হয় এরপর থেকে নাগরাজ তক্ষক ভগবান শিবের সানিধ্যে চলে যায়৷ -- পৌরাণিক কথা অনুসারে
এই মন্দির খুবই পুরানো৷ মানা হয় যে পরমার রাজা ভোজ 1050 খ্রীষ্টাব্দে পুনর্নিমাণ করিয়েছিলেন৷ এরপর সিন্ধিয়া ঘরানার মহারাজ রাণাজী সিন্ধিয়া 1732 খ্রীষ্টাব্দে মহাকাল মন্দিরের পুনর্নিমাণ করিয়েছিলেন৷ সেই সময়ে এই মন্দিরেরও পুনর্নিমাণ করা হয় বলে শোনা যায়৷
জনশ্রুতি আছে যে এই মন্দিরের দর্শন করার পর যেকোন রকম সাপের দোষ কেটে যায়৷ আর শুধুমাত্র এই কারণের জন্য শুধুমাত্র নাগপঞ্চমীর দিনে খোলা এই মন্দিরের বাইরে ভক্তদের প্রচন্ড লাইন পড়ে৷ সবার মনোস্কামনা এই থাকে যে নাগরাজের উপর বিরাজমান শিবশম্ভুর একটা ঝলক যেন দেখতে পায়৷
কখন যাবেন - এই মন্দিরের দর্শন করতে গেলে নাগপঞ্চমীর দিন যাওয়া উচিত কেননা এই দিনটা ছাড়া বছরের বাকিসময় এই মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকে৷ যদি উজ্জ্বয়ন দর্শন করবার ইচ্ছা থাকে তবে নাগপঞ্চমীর কিছু দিন আগে বা কিছুদিন পরে সময় ঠিক করুন, তবে নাগরাজ তক্ষকের দুর্লভ দর্শন দেখতে পাবেন৷
কেমন করে যাবেন :
সড়ক পথে - উজ্জ্বয়ন-আগ্রা-কোটা-জয়পুর পথ, উজ্জ্বয়ন-বদনাবর-রতলাম-চিত্তোর পথ, উজ্জ্বয়ন-ম্যাক্সী-শাজাপুর-গোয়ালিয়র-দিল্লি পথ, উজ্জ্বয়ন-দেবাস-ভোপাল পথ, উজ্জ্বয়ন-ধুলিয়া-নাসিক-মুম্বাই পথ৷
রেল পথে - উজ্জ্বয়ন থেকে মক্সী-ভোপাল পথ (দিল্লি-নাগপুর লাইন), উজ্জ্বয়ন-নাগদা-রতলাম পথ (দিল্লি-মুম্বাই পথ), উজ্জ্বয়ন-ইন্দোর রেলপথ (মীটারগেজ থেকে খান্ডওয়া রেললাইন), উজ্জ্বয়ন-ম্যাক্সী-গোয়ালিয়র-দিল্লি রেলপথ৷
বিমান পথে - উজ্জ্বয়ন থেকে ইন্দোর এয়ারপোর্ট কমপক্ষে 6 কিমি দুরে অবস্থিত৷
কোথায় থাকবেন :
উজ্জ্বয়নে ভাল হোটেল থেকে আরম্ভ করে সাধারণ মানের ধর্মশালা পর্যন্ত পাবেন৷ এর সঙ্গে সঙ্গে মহাকাল সমিতির মহাকাল ও হরসিদ্ধি মন্দিরের পাশে ভাল ধর্মশালা আছে৷ এই ধর্মশালাতে এসি, নন-এসি ও ডরমেটারী সবরকমের ঘর উপলব্ধ৷ মন্দির প্রবন্ধন সমিতি খুব ভাল দেখাশুনা করে৷
|