মানস সরোবর ওং নমঃ শিবায় মানস সরোবর হল এক পবিত্র স্থল৷ যুগ যুগ থেকে মুনী ঋষিরা এই স্থানটিতে বসে সাধনা করেছেন৷ এটি অলৌকিক স্থানটির মাহাত্ম্য সারা বিশ্ব জুড়ে প্রচারিত৷ একশর বেশী ঋষিরা এই সরোবরের জলে স্নান করে স্বর্গীয় সুখ লাভ করেছেন৷ সমুদ্র তল থেকে কৈলাস পর্বতটি 22,ও28 কিমি উচুতে অবস্থিত৷ এখানকার একটি বিশেষত্ব হল ওং এই ধ্বনিটি এই কৈলাস পর্বতে জুড়ে শুনতে পাওয়া যায়৷ বরফের পাহাড়ে যখন সূর্যকিরন এসে পড়ে তখন মনে হয় কোন যোগী মহাপুরুষ যেন ওম শব্দটি উচ্চারন করছেন৷
সমগ্র কৈলাস পর্বত জুড়ে ওম শব্দটির প্রতিধ্বনি হতে থাকে৷ ভারতীয় দর্শনের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হল মানস সরোবর৷ ভারতীয় সভ্যতা এবং সংস্কৃতিতে মানস সরোবরের গুরুত্ব অসীম৷ শোভাবর্ধন করার জন্য এই পর্বতের ঢালু জায়্গায় কল্পা ভিরুকসা গাছটিকে লাগানো হয়েছিল এরকম অনুমান করা হয়৷ এই গাছটির দক্ষিন প্রান্তকে বলা হত সাপিরি, পূর্ব প্রান্তটাকে ক্রিস্টাল,পশ্চিম প্রান্তটাকে রুবি এবং উত্তর প্রান্তটাকে সোনা নামে অভিহিত করা হয়৷ এই অঞ্চলে কিউবেরা শহরটি অবস্থিত৷
ভগবান বিষ্ণুর পদ থেকে উত্পত্তি লাভ করার পর গঙ্গা কৈলাসের শৃঙ্গে এসে অবতরন করে৷ তখন ভগবান শিব প্রচন্ড শিব প্রচন্ড ক্রুদ্ধ হয়ে যান৷ কারণ কৈলাস হল শিবের অধিষ্ঠানের জায়গা৷ শিব তখন নিজের জটার মধ্যে গঙ্গাকে ধারন করেন৷ বৌদ্ধদের তীর্থস্থান গুলির মধ্যে তিব্বত হল একটি গুরুত্বপূর্ন স্থান৷ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষরা ডেমচক ভগবানের পূজো করেন৷
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মানুষেরা দৃঢতার সঙ্গে বিশ্বাস করেন যে এই তীর্থস্থানটিতে আসলে নির্বান লাভ করা যায়৷ জৈনরা বলেন তাদের প্রথম তীর্থঙ্কর মনস সরোবরে সাধনা করে নির্বান লাভ করেছিলেন৷ আবার কারও কারও মতে গুরুনানকও মানস সরোবরে সাধনা করেছিলেন৷ যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষরা এই স্থানটি পরিদর্শন করতে এসেছেন৷
পৌরাণিক কাহিনী এবং উপকথা থেকে এই অঞ্চলটা সম্বন্ধে যে তথ্য গুলো পাওয়া যায় তাতে এটাই প্রমানিত হয় যে ভারতের সকল ধর্মাম্বলম্বী মানুষরা একতা ও মৈত্রীর বন্ধনে আবদ্ধ৷ কথিত আছে মহারাজা মান্ধাতা মানস সরোবরের হৃদটি আবিষ্কার করেছিলেন৷ তিনি কৈলাস পর্বতে মানস সরোবরের তীরে তাঁর তপস্যা করেছিলেন৷ তাঁর নাম অনুসারেই এই হৃদটির মানস সরোবর নাম দেওয়া হয়েছে৷
বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষরা বিশ্বাস করেন এই পর্বতের মধ্যে এমন একটি গাছ আছে যার ফল থেকে অনেক দুরারোগ্য ব্যাধি নির্মূলের ওষুধ তৈরী করা হয়৷ এই ফল থেকে তৈরী ওষুধে শারীরিক এবং মানসিক যে কোন রোগ সেরে যায়৷ মানসসরোবর যাত্রা কোন অভিযানের থেকে কোন অংশে কম নয়৷ এই স্থানটির উচ্চতা হল প্রায় 3500 মিটার৷ স্বাভাবিক ভাবেই সমুদ্র সমতল থেকে যত উচুতে উঠা যায় বাতাসে অক্সিজেনের পরিমান তত কম হতে থাকে৷ সেইজন্য যাত্রীদের অনেক সময় ম্যাথাব্যথা এবং শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে কষ্ট হয়৷ সেইজন্য মানস সরোবর যাত্রার সময় যাত্রীদের বিশ্রাম নেওয়া একান্ত প্রয়োজন৷ আবহাওয়া পরিবর্তনের জন্য নানারকম শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে৷ তবে যাত্রার সময় সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন৷
কি করে পৌঁছাবেন? 1)ভারত সরকারের তরফ থেকে মানস সরোবর ভ্রমনের ব্যবস্থা করা হয়৷ 28 থেকে 30 দিনের এই ভ্রমনে বিদেশ মন্ত্র কের তরফ থেকে খুব সীমিত সংখ্যক যাত্রীদেরই নেওয়া হয়৷
2) কাঠমান্ডু থেকে বিমানে যাওযার পর সড়ক পথে মানস সরোবরে পৌঁছানো যায়৷
3) এছাড়া এই ভ্রমনে কাঠ মান্ডু থেকে বিমানে নেপালগঞ্জ, নেপালগঞ্জ থেকে সিমিকটে নিয়ে যাওয়া হয়৷ সিমিকট থেকে হেলিকপ্টারে করে হিলসাতে নিয়ে যাওয়া হয়৷ এরপর গাড়ি করে মানস সরোবরে পৌঁছে দেওয়া হয়৷
4) এছাড়া লাসা থেকেও বিমানে যাওয়া যায়৷ এই ক্ষেত্রে কাঠমান্ডু থেকে বিমানটি লাসাতে যায়৷ লাসা থেকে তিব্বতের শিঘাস্তে, গিয়ানস্তে, লাতসে, প্রায়াঙ্গ শহরগুলি ভ্রমনের মধ্যে দিয়ে মানস সরোবরে পৌঁছাতে পারবেন৷
|