মুখ্য পৃষ্ঠা >  ধর্ম > ধর্ম যাত্রা > নিবন্ধ
পরামর্শ বা প্রতিক্রিয়ামিত্রকে পাঠানএই পৃষ্ঠা প্রিন্ট করুন
 
সিঙ্গাজী মহারাজের পবিত্র সমাধিস্থল  Search similar articles


ShrutiWD
এই পর্বের ধর্মযাত্রায় আমরা আপনাদের সন্ন্যাসী সিঙ্গাজী মহারাজের সমাধি স্থল দর্শন করাব৷ মহারাজ সিঙ্গাজী ছিলেন মহান সন্ত কবীরের সমকালীন যুগের সন্ন্যাসী৷ খন্ডবা ( মধ্যপ্রদেশ) থেকে 35 কিমি দূরত্বে পীপল্যা গ্রামে মহারাজ সিঙ্গাজীর সমাধি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে৷ গাবলী সমাজে জন্মেছিলেন মহারাজ সিঙ্গাজী৷ তিনি ছিলেন অতি সাধারন মানুষ৷ মনরঙ্গ স্বামীর প্রবচন শুনে এবং তাঁর সান্নিধ্যে এসে সিঙ্গাজীর হৃদয় পরিবর্তিত হয়৷ তিনি ধর্মের পথে তাঁর জীবনকে নিয়ে যান৷

মালবা নিমাড় জেলায় সিঙ্গাজী মহারাজ অত্যন্ত প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন৷ তিনি গৃহস্থের জীবন যাপন করা সত্ত্বেও আজীবন নির্গুণ উপাসনা করেছেন৷ তবে তিনি তীর্থ ও ব্রত পালনে বিশ্বাস করতেন না৷ তিনি বলতেন মানুষের মনেই সকল তীর্থের আবাস৷ অন্তর্মনকে যারা দেখেছে সব তীর্থ দর্শনের পুন্যই তারা লাভ করেছে৷ সিঙ্গাজী মহারাজ তাঁর অলৌকিক বাণীর মধ্যে দিয়ে তত্কালীন সমাজে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে এসেছিলেন৷

একবার সিঙ্গাজী মহারাজকে ওঙ্কারেশ্বরের জ্যোতির্লিঙ্গটি দর্শন করার করতে যাবার কথা বলা হয়েছিল৷ তখন মহারাজ বলেছিলেন যেখানে পাথর এবং জল আছে সেটাই হল তীর্থ৷ এই কথা বলে তিনি পীপল্যার নিকটে একটা তালকে গঙ্গা মনে করে সেখানে স্নান করেন৷ সিঙ্গাজী মহারাজ তাঁর জীবনে কোন মন্দির অথবা পূজো স্থান নির্মান করেন নি৷ সন্ত সিঙ্গাজী মহারাজ সক্ষাত ঈশ্বরের দর্শন পেয়েছিলেন৷
WDWD


সিঙ্গাজী তাঁর গুরুর পরামর্শে শ্রাবণ শূক্ল পঞ্চমীর দিনে ভগবানের নাম স্মরণ করে দেহত্যাগ করেন৷ কথিত আছে সিঙ্গাজী মহারাজের অন্তিম ইচ্ছাটি পূরন না হওয়ার জন্য সমাধিস্থ হওয়ার 6 মাস বাদে সিঙ্গাজী মহারাজ তাঁর শিষ্যকে তাঁর শোয়ানো দেহকে বসে সমাধিস্থ করার নির্দেশ দেন৷ এই নির্দেশ মেনে তাঁর শিষ্যরা সমাধি থেকে তাঁর অখন্ড দেহ বার করে পুনরায় তাঁর সমাধি নির্মান করেন৷

সিঙ্গাজী মহারাজের সমাধিটি ইন্দিরা সাগর পরিযোজনার সীমার মধ্যে আসার দরুন সেই স্থানের আশেপাশে 50-60 ফুট প্রাচীর নির্মান করে ঐ অঞ্চলটির সুরক্ষা বাড়ানো হয়েছে৷ এছাড়া উপরের দিকে মহারাজের মন্দির নির্মান করা হচ্ছে৷ নির্মানের কাজ চলার ফলে ভক্তদের দর্শনের জন্য সিঙ্গাজী মহারাজের চরণ পাদুকা অস্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত করা হয়েছে৷

ভক্তদের গভীর বিশ্বাস এখানে উল্টোভাবে স্বস্তিক চিহ্ন আঁকলে সকল মনোকামনা পূর্ণ হয়৷ মানদ পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পর ভক্তরা সিঙ্গাজী মহারাজের দরবারে সোজা স্বস্তিক বানিয়ে মহারাজের প্রতি তাদের ভক্তি প্রদর্শন করেন৷ প্রতি শারদ পূর্নিমাতে সিঙ্গাজী মহারাজের দরবারে মেলা বসে৷ হাজার হাজার ভক্তরা এই দিন সিঙ্গাজী মহারাজের দরবারে এসে মহারাজের উদ্দেশ্যে প্রণাম নিবেদন করেন৷
WDWD


কেমন করে যাবেন?
সড়ক পথে: এই স্থানে যাওয়ার জন্য খন্ডবা থেকে প্রতি 30 মিনিট অন্তর বাস পাওয়া যাবে৷
রেলপথে: খন্ডবা থেকে বীড় রেলস্টেশন পর্যন্ত শটল ট্রেন যায়৷ এই রেলওয়ে স্টেশনটি পীপল্যা গ্রাম থেকে 3 কিমি দূরত্বে অবস্থিত৷
ভিডিও দেখুন
অতিরিক্ত
শ্রী লক্ষ্ণী নরসিংহ চন্দোত্সব  
দক্ষিনের শ্রীকালহস্তীর মন্দির  
ভগবান পরশুরামের শাহজাহাপুরের মন্দির  
লক্ষ্ণৌর চন্দ্রিকা ধাম  
বিজাসন মন্দির  
দেবাসের তুলজাভবানী মন্দির