মুখ্য পৃষ্ঠা >  ধর্ম > ধর্ম যাত্রা > নিবন্ধ
পরামর্শ বা প্রতিক্রিয়ামিত্রকে পাঠানএই পৃষ্ঠা প্রিন্ট করুন
 
রোগ নির্মূল করেন বৈথিয়ানাথ স্বামী  Search similar articles


WDWD
আমাদের দেশে ভগবান শিবের যতগুলো প্রসিদ্ধস্থান আছে তার মধ্যে বৈথীস্বরন কোইলে হল একটা উল্লেখযোগ্য স্থান৷ যে সব রোগের চিকিত্সা করতে পারে তাঁকে বৈথীয়ন্তর বলে৷ এককথায় যাকে বলা হয় চিকিত্সক৷ জনশ্রুতি আছে ভগবান বৈথীন্তরের কৃপায় 4,480টা রোগের চিকিত্সা সম্ভব৷ এই কারনে এই মন্দিরটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে৷ সীতাকে রাবণ যখন অপহরন করে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখন জটায়ু সীতাকে রাবণের কবল থেকে উদ্ধার করার জন্য রাবণের সঙ্গে লড়াই করেছিলেন৷ এতে জটায়ুর দুটো পাখা কেটে গেছিল৷ আর এই মন্দিরের স্থানেই ঐ পাখা দুটো পড়েছিল৷

সীতার খোঁজ করতে করতে ভগবান রাম যখন এই স্থানে এসে পৌঁছান তখনও জটায়ুর মধ্যে প্রাণ ছিল৷ জটায়ু সব কথা রামকে জানান৷ আর্ রামের কাছে তাঁকে দাহ করার অনুরোধ জানান৷ যেই স্থানে ভগবান রাম জটায়ুকে দাহ করেন সেই স্থানটা জটায়ু কুন্ডম নামে পরিচিতি লাভ করেছে৷ এই স্থানটি বৈথীস্বরন মন্দিরের ভিতরেই অবস্থিত৷ এখানে যে কোন ধর্মের ভক্তরা এসে এই কুন্ডমের বিভূতি প্রসাদ গ্রহন করতে পারেন৷ সীতাকে উদ্ধার করার জন্য ভগবান রাম বারণের সঙ্গে যুদ্ধ করেন৷ যুদ্ধে রাম জয়ী হন৷ যুদ্ধ শেষে তিনি সীতা এবং তাঁর অন্য সহচর বৃন্দের সঙ্গে এই স্থানটিতে আসেন এবং ভগবান শিবের কাছে প্রার্থনা করেন৷ এছাড়া দৈবিক শক্তির বলে ভগবান মুরুগা এই স্থানে বেল্ অস্ত্র লাভ করেছিলেন৷ এই অস্ত্র দিয়ে তিনি পদমা সুরন নামে এক অসুরকে বধ করেছিলেন৷

বিশ্বামিত্র মুনী, বশিষ্ঠ মুনী, তিরুবানাকুরসর, তিরুঙ্গনসবন্দর, অরুনাগীরীনাথর প্রভৃতি ঋষিরা এই স্থানে বসে ঈশ্বরের পূজো অর্চনা করেছেন৷ এই স্থানটি নবগ্রহ ক্ষেত্রম নামেও পরিচিতি লাভ করেছে৷ কারন বিভিন্ন রোগে জর্জরিত হয়ে মঙ্গল গ্রহ যাকে (তামিলে বলে অঙ্গরকন )এখানে বসে ঈশ্বরের প্রার্থনা করেছিলেন৷ যে সব মানুষের জন্মকুন্ডলীতে দোষ থাকে তারা এখানে অঙ্গরকনের পূজো করতে আসেন৷ ভগবান শিব এখানে থাইলম, সঞ্জীবনী এবং বেল গাছের শিকড় যুক্ত মাটি এই মিশ্রন দিয়ে তিনি এই স্থানে আসেন৷ রোগ জর্জরিত ভক্তদের রোগ নির্মুল করেন৷ বৈইথীয়নাথ স্বামী নামে পরিচিতি লাভ করেন৷ এই মিশ্রনটি দিয়ে 4,480 টি রোগের চিকিত্সা করা যায়৷ লাখ লাখ ভক্তরা প্রতি বছর এই মন্দিরটি দর্শন করেন৷ ভগবানের কাছে সুস্থ সবল থাকার জন্য প্রার্থনা করেন৷
WDWD


জনশ্রুতি আছে ভক্তদের সকল মনোকামনা এখানে পূর্ণ হয়৷ প্রাচীন প্রথা অনুসারে এখানে এক বিশেষ ধরনের ওষুধ তৈরী করা হয়৷ শুক্ল পক্ষের দিন ভক্তদের অঙ্গসংস্থনা তীর্থম অর্থাত পবিত্র জলাধারে স্নান করা উচিত৷ এই জলাশয়ের মাটি নিয়ে জটায়ু কুন্ডমের বিভুতি প্রসাদের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়৷ এছাড়া এখানে সিদ্ধামীর্থমের পবিত্র কুম্ভ থেকেও আপনি পবিত্র জল পান করতে পারেন৷ ভগবান মুরুগার সামনে ঐ মিশ্রনটাকে পেষা হয়৷ মিশ্রনটা পেষা হয়ে যাওয়ার পর ছোট ছোট করে বড়ির আকার দেওয়া হয়৷ এরপর শক্তি সনাধীর সামনে ঐ ওষুধটাকে পূজো করা হয়৷ এরপর সিদ্ধমিরথা জলাশয়ের পবিত্র জল দিয়ে ঐ ওষুধ সেবন করা হয়৷ তামিল ভাষা অনুয়ায়ী এই ওষুধ খেলে আগামী পাঁচ জন্ম পর্যন্ত কোন রোগ হওয়ার ভয় থাকে না৷

এই প্রসঙ্গে মন্দিরের গুরুকুলের বরিষ্ঠ অধিকারী আমাদের জানান ভগবান শিবকে বৈথিয়ন্ধরের রুপে পূজো করা হয়৷ এখানে ভগবান কামধেনু এবং করপগা বিরুকশমের মত ভগবান গণেশেরও পূজো করা হয়৷ বিয়ের সমস্যা, সম্পত্তির সমস্যা প্রভৃতি সকল সমস্যা দূর করার জন্য এটা হল একটা প্রসিদ্ধ স্থান৷ ভগবান মুরুগা তাঁর ভক্তদের পুত্র লাভ করার আশীর্বাদ দেন৷ জনশ্রুতি আছে বেলপাতা, চন্দন এবং বিভূতি পদার্থের মিশ্রন দিয়ে ভগবান তাঁর ভক্তদের চিকিত্সা করেন৷ এই ক্ষেত্রের গাছটি চার যুগে চার রকম ছিল৷ কৃতা যুগে ছিল কদম্ব রুপে,ত্রেতা যুগে ছিল বেলপাতা রুপে, দ্রাপড় যুগে ছিল বাকুলা রুপে এবং কালী যুগে ছিল নীম রুপে৷ এই মন্দির স্থিত পবিত্র কুম্ভটিকে সিদ্ধামীর্থ কুম্ভ বলা হয়৷ কীরত যুগে কামধেনু এই ক্ষেত্রে এসেছিলেন৷

WDWD
শিব লিঙ্গে অত্যাধিক পরিমানে দুধ দেওয়ার ফলে ঐ দুধ জমে এই স্থানে কুম্ভ তৈরী হয়েছে৷ এই কুম্ভটি হল একটি পবিত্র ধার্মিক স্থল৷ যাদের ভুতে ধরে তারা যদি এই কুম্ভতে স্থান করেন তাহলে তারা ঐ প্রেতাত্মার হাত থেকে মুক্তি লাভ করবেন৷ ভগবান বৈইথীয়নাথস্বামীর নাম অনুসারে এই স্থানটাকে বৈইথীসরবন কোইল নামে অভিহিত করা হয়৷ এই স্থানের নাদী জ্যোতিধামে কোন ব্যক্তি তাঁর অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যত সম্বন্ধে সব তথ্য জানতে পারেন৷ এই নগরের চতুর্দিকে নাদী জ্যোতিধামের কেন্দ্র রয়েছে৷

কেমন করে যাবেন?

রেলপথে: রেলপথে চেন্নাই এর থানজাবর থেকে বৈথীসরবন রেল স্টেশন পর্যন্ত যেতে পারবেন৷

সড়ক পথে: বৈথীসরবন কোইল চিদম্বরনের নিকটে অবস্থিত৷ চেন্নাই থেকে এর দূরত্ব হল 235 কিমি৷ চিদম্বরন থেকে 26 কিমি দূরত্বে অবস্থিত ভগবান শিবের এই ক্ষেত্রটিতে আপনি বাসেও যেতে পারবেন্৷ বাসে এই স্থানটিতে পৌঁছাতে 35 থেকে 40 মিনিট সময় লাগে৷

বিমান পথে: চেন্নাই বিমানবন্দরটি এর খুব নিকটেই অবস্থিত৷ চেন্নাই থেকে আপনি এখানে সড়ক পথে অথবা রেলপথেও আসতে পারবেন৷
ভিডিও দেখুন
অতিরিক্ত
খন্ডবার্ তুলজা ভবানীর মন্দির  
মহান সন্ন্যাসী যোগেন্দ্র শীলনাথ  
মহান সন্ন্যাসী দাদাজী ধুনিবালে  
সিঙ্গাজী মহারাজের পবিত্র সমাধিস্থল  
শ্রী লক্ষ্ণী নরসিংহ চন্দোত্সব  
দক্ষিনের শ্রীকালহস্তীর মন্দির