এই পর্বের ধর্মযাত্রায় আমরা সামনে তুলে ধরবো গুজরাটের রথযাত্রা৷ প্রতি বছর আষাঢ় মাসের দ্বিতীয় দিনে আমেদাবাদে এই রথযাত্রাটি বার করা হয়৷ এটি হল এখানকার পরম্পরা৷ অগণিত ভক্তরা এই রথযাত্রাতে এসে অংশ নেন৷
এই দিন আমেদাবাদের জগন্নাথ মন্দিরে বোন শুভদ্রা আর ভাই বলরামের সঙ্গে ভগবান জগন্নাথ শহর পরিভ্রমনে বেরোন৷ তিনটে আলাদা আলাদা রথে তিনজন ভগবানকে বসানো হয়৷ এই রথযাত্রাতে সাধু সন্ন্যাসী থেকে শুরু করে অসংখ্য মহিলারাও অংশ গ্রহন করেন৷ আর বিভিন্ন কলা প্রদর্শনকারীরা ভগবানের সামনে তাদের কলা প্রদর্শন করে ভগবানকে সন্তুষ্ট করার প্রয়াস চালান৷
এই দিন শহরে প্রচন্ড ভিড় পরিলক্ষিত হয়৷ শহরের সব ভক্তরাই এই ভক্তিসাগরে ডুবে যান৷ প্রত্যেকটা জায়গায় ভক্তরা পুষ্প বৃষ্টির মাধ্যমে ভগবান জগন্নাথকে শ্রদ্ধা জানান৷ কথিত আছে সর্বপ্রথম রথে উপবিষ্ট ভগবানের দর্শন করেন মন্দিরের প্রধান পুরোহিত৷ এরপর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সোনার ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা পরিস্কার করেন৷ তারপর তিনি রথে ধাক্কা দেন৷ সকাল থেকেই এই যাত্রা বার করা হয়৷ শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দুপুরে এই রথ পৌঁছায় সরসপুরে৷ সরসপুরে কিছুক্ষন বিশ্রাম নেওয়া হয়৷ এই স্থানে রথযাত্রায় সামিল ভক্তদের ভোজন করানো হয়৷ কথিত আছে প্রায় এক লাখেরও বেশী ভক্তরা এখানে ভগবান জগন্নাথের প্রসাদ গ্রহন করেন৷
ভগবান জগন্নাথ দেবের মন্দিরের একটা ইতিহাস আছে৷ এই মন্দিরটি হল 443 বছরের পুরোনো মন্দির৷ প্রায় 125 বছর পূর্বে ভগবান জগন্নাথ মন্দিরের মহন্ত নরসিংহদাসজীকে স্বপ্নে দর্শন দিয়েছিলেন৷ তিনি নরসিংহদাসজীকে রথযাত্রা বের করার আদেশ দেন৷ আজ পর্যন্ত এই পরম্পরা এখানে বহাল রয়েছে৷ ভক্তদের অগাধ বিশ্বাস যে সব ভক্ত ভগবান জগন্নাথ দেবের এই রথযাত্রায় অংশ নেয় এবং রথের দড়ি টানে ভগবান জগন্নাথ স্বয়ং তাদের জীবনের সকল দুঃখ দুর্দশা দূর করে দেন৷
তবে এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য এই রথযাত্রাতে রথের দড়ি টানার অধিকার মল্লাহ লোকদেরই দেওয়া হয়েছে৷ কথিত আছে ভরুচের মল্লাহ সম্প্রদায়ের লোকেরাই প্রথম রথযাত্রার জন্য রথ প্রদান করেছিল৷ সেইজন্য এই সম্প্রদায়ের মানুষদেরই প্রথম রথের দড়ি টানতে দেওয়া হ্য়৷ রথযাত্রা হল একতার উত্সব৷ এ দিন মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষেরাও এই রথযাত্রা দর্শন করতে আসেন৷ তারা মন্দিরের মহন্তকে স্বাগত জানান৷ এই রথযাত্রার মূল প্রসাদ হিসাবে ভক্তদের পেয়ারা আর মুগ ডাল দেওয়া হয়৷অপরদিকে নৈবেদ্য হিসাবে ভগবানের কাছে কুমড়ো ও বরবটির সবজী এবং খিচুড়ি চড়ানো হয়৷
|