মুখ্য পৃষ্ঠা > ধর্ম > ধর্ম যাত্রা > নিবন্ধ > শেখাবাটীর খাটু শ্যামের মন্দির
পরামর্শ বা প্রতিক্রিয়ামিত্রকে পাঠানএই পৃষ্ঠা প্রিন্ট করুন
 
শেখাবাটীর খাটু শ্যামের মন্দির
বৃজেন্দ্র সিং ঝালা

ধর্মযাত্রার এই পর্বে আমরা আপনাদের শেখাবাটীর খাটু শ্যামের মন্দিরটি দর্শন করাব৷ রাজস্থানের শেখাবাটীর সিকর জেলায় খাটু শ্যামের এই পরম ধামটি অবস্থিত৷ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কলী যুগে খাটু শ্যাম অবতারেই ধরায় প্রকট হয়েছিলেন৷ এখানে ভগবানের ঐ রুপটাকেই খাটু শ্যাম রুপে পুজো করা হয়৷ শ্যামজীর কৃপা লাভ করার জন্য শুধু রাজস্থানের মানুষরাই নন, আপামর ভারতবাসী খাটু শ্যামকে দর্শন করতে ঐ স্থানে আসেন৷

প্রাচীণ খাটু শ্যামের ঐ মন্দিরটিকে 1720 সালে পুণরায় বিন্যাস করা হয়েছে৷ ঐতিহাসিক পন্ডিত ঝাবরমল শর্মার মতে 1679 সালে মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের সেনাবাহিনীর আক্রমণে ঐ মন্দিরের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ মন্দিরের সুরক্ষা বজায় রাখতে গিয়ে বহু রাজপুত সৈনিক প্রাণ হারান৷

খাটুতে ভীমের নাতি আর ঘটোত্কচের পুত্র বর্বরিককেই শ্যাম রুপে পুজো করা হয়৷ কথিত আছে মহাভারতের যুদ্ধের সময় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বর্বরিককে বরদান দিয়েছিলেন৷ কলিযুগে শ্যামরুপে বর্বরিকের পুজো করা হবে এটাই ছিল ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বরদান৷ খাটুতে শ্যামের মস্তকের পুজো করা হয়৷ অপরদিকে এরই নিকটস্থ রিঙ্গসে ভগবানের ধড়ের পুজো করা হয়৷

প্রতি বছর ফাল্গুন মাসে শুক্ল পক্ষতে এখানে বিশাল মেলা বসে৷ শুধু ভারত থেকেই নয় বিদেশ থেকেও মানুষ এই মেলা দেখতে আসেন৷ হাজার হাজার মানুষ পদযাত্রার মাধ্যমে এই মন্দিরে পৌঁছান৷ আবার কিছু কিছু মানুষ মানদ পূর্ণ করার জন্য দন্ডি কেটে খাটু নরেশের দরবারে হাজির হন৷ এখানকার এক দোকানদার রামচন্দ্র চেজারা জানান নবমী থেকে দ্বাদশীর মধ্যে লাখ লাখ ভক্তরা এই মন্দিরে আসেন৷ প্রত্যেক একাদশী তিথিতে এখানে ভক্তদের লম্বা লাইন পড়ে৷ অপরদিকে রবিবার খাটু শ্যামকে দর্শন করতে আসা ভক্তদের ভিড় এখানে পরিলক্ষিত হয়৷
WDWD


খাটু মন্দিরে পাঁচ বার আরতি হয়৷ সকাল 5 টার সময় মঙ্গল আরতি হয়৷ 7 টার সময় ধুপ আরতি হয়৷ দুপুর 12 টা 15 মিনিটে ভোগ আরতি হয়৷ অপরদিকে সন্ধ্যা 7.30 মিনিটে সন্ধ্যা আরতি হয়৷ রাত্রি 10টার সময় শয়ন আরতি হয়৷ গরমের সময় আরতির সময় সূচি কিছুটা পরিবর্তন করা হয়৷ কার্তিক শুক্ল একাদশী তিথিতে শ্যামজীর জন্মোত্সব উপলক্ষ্যে 24 ঘন্টা মন্দিরের দ্বার খুলে রাখা হয়৷

দর্শনীয় স্থান: খাটু মন্দিরের চারধারে বাগান এবং শ্যাম কুন্ড রয়েছে৷ মন্দিরের বাগানে খাটু শ্যামের পরম ভক্ত আলুসিংজীর সমাধিস্থল নির্মাণ করা হয়েছে৷ শ্যামকুন্ড ভীষণ জাগ্রত৷ কথিত আছে এই শ্যাম কুন্ডে স্নান করলে সব পাপ মিটে যায়৷ পুরুষ এবং মহিলাদের স্নানের জন্য এখানে পৃথক ব্যবস্থা করা হয়েছে৷

কেমন করে যাবেন?

সড়ক পথে:জয়পুর থেকে রাজস্থান পরিবহনের বাস ছাড়া ট্যাক্সি এবং জিপেও আপনি এই স্থানে যেতে পারেন৷

রেলপথে: এর নিকটতম রেলওয়ে স্টেশনটি হল রিঙ্গাস জাংশন৷

বিমান পথে: এর নিকটতম বিমান বন্দর টি হল জয়পুর৷ জয়পুর বিমানবন্দর থেকে খাটু ধাম 80 কিমি দূরত্বে অবস্থিত৷
ভিডিও দেখুন
 Play Free Online Games  Click Here
 Blogs, Videos and More  Click Here
 Send Musical and Animated Cards  Click Here
 Simple, Fast & Free Email Service  Click Here
এখানে তথ্য খুঁজুন
অতিরিক্ত
শেংদূর্ণীর ত্রিবিকম মন্দির  
ভারতের সব থেকে বৃহত্তম শনি মন্দির  
নন্দুরবারের প্রতিকাশী মন্দির  
আদিশক্তি একবীরা দেবী  
দত্ত জয়ন্তী  
প্রাচীন কর্ণেশ্বর মন্দির