
ধর্মযাত্রার এই পর্বে আমরা আপনাদের জেজুরীর খন্ডোবা মন্দিরটি পরোদর্শন করাব৷ মহারাষ্ট্রের জেজুরী অঞ্চলটি এই খন্ডোবা মন্দিরটির জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেছে৷ মারাঠী ভাষায় একে 'খন্ডোবাঞ্চী জেজুরী'বলে৷ জেজুরী ভগবান মলহারী মার্তন্ড অর্থাত ধনদায় সমুদায়ের কাছে খুবই প্রসিদ্ধ৷ ধনগররা হলেন মহারাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরোনো একটা জাতি৷ খন্ডবা হলেন ধননগরদের কুলদেবতা৷ মারাঠী পরম্পরা অনুয়ায়ী বিয়ের পর নব দম্পতিদের খন্ডোবার এই মন্দিরে এসে আশীর্বাদ নেওয়াটা খুব জরুরী৷
জেজুরী পুণে: ব্যাঙ্গালুরু জাতীয় সড়কের উপর ফলটন নামে এক শহরের নিকটেই জেজুরি পুণে অবস্থিত৷ জেজুরি হল পুরন্দর থানার অন্তর্গত৷ পুরন্দরে অনেক ঐতিহাসিক দুর্গ আছে৷ এই কারণে এই শহরটি ইতিহাসে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে৷ খন্ডোবা মন্দিরটি একটা ছোট পাহাড়ের উপর অবস্থিত৷ তবে এই মন্দিরে পৌঁছাতে হলে প্রায় 200 টা সিড়ি অতিক্রম করতে হয়৷ পাহাড়ের উপরে জেজুরী প্রাকৃতিক দৃশ্যটি অতি মনোরম৷ সিড়ি দিয়ে মন্দিরে উঠার সময় মন্দির প্রাঙ্গণে দীপমালার উজ্জ্বল রুপটি দেখতে পাওয়া যায়৷ অপরদিকে এই উত্কৃষ্ট দীপমালার জন্যই জেজুরী প্রসিদ্ধি লাভ করেছে৷
মন্দিরকে প্রধাণ দুভাগে ভাগ করা হয়েছে৷ প্রথম ভাগটাকে মন্ডপ বলা হয়৷ এখানে ভক্তরা একত্রিত হয়ে ভগবানের পূজা এবং ভজনে লিপ্ত হন৷ অপরদিকে দ্বিতীয় ভাগটি হল গর্ভগৃহ৷ এখানে খন্ডোবার চিত্তাকর্ষক প্রতিমা বিরাজিত রয়েছে৷ হেমান্ডপন্থী শৈলীতে তৈরী এই মন্দিরের ভিতরে 10X12 আকারে নির্মিত পিতলের একটি কচ্ছপ রয়েছে৷ মন্দিরের ভিতরে বেশ কিছু হাতিয়ারও রাখা হয়েছে৷ দশমীর দিন এখানে দীর্ঘ সময় ধরে তলোয়াড় নেওয়ার রীতি প্রচলিত আছে৷
ঐতিহাসিক দিক দিয়ে জেজুরীর গুরুত্ব অসীম৷ কথিত আছে শিবাজী দীর্ঘ সময় পরে তাঁর পিতা শাহজীর সঙ্গে এই স্থানে সাক্ষাত করেছিলেন৷ এরপর তারা দুজনে মিলে মুঘলদের বিরুদ্ধে রণনীতি গড়েন৷ সেই সময় জেজু দক্ষিন প্রান্তের একটা মুখ্য দুর্গ হিসাবে খ্যাতি লাভ করেছিল৷
মধ্যপ্রদেশের হোলকার রাজবংশের কুলদেবতা হলেন জেজুরী৷ চৈত্র, মাঘ এবং পোষ মাসে এখানে বিশেষ যাত্রার আয়োজন করা হয়৷ এই যাত্রায় বহু ভক্তরা অংশ নেন৷
কেমন করে যাবেন?
সড়ক পথে : জেজুরী পুণা থেকে 40 কিমি দূরত্বে অবস্থিত৷ পুণা থেকে যে কোন বাসে অথবা ট্যাক্সি করে আপনি জেজুরী পৌঁছাতে পারবেন৷
রেলপথে: জেজুরী রেলওয়ে স্টেশনটি পুণে-মিরজ রেলওয়ে মার্গেই অবস্থিত৷
বিমান পথে: পুণে বিমান বন্দর নিকটেই এই মন্দিরটি অবস্থিত৷
|