মুখ্য পৃষ্ঠা > ধর্ম > ধর্ম যাত্রা > নিবন্ধ > নান্দেরের প্রসিদ্ধ গুরুদোয়ারা অবচলনগর সাহিব
পরামর্শ বা প্রতিক্রিয়ামিত্রকে পাঠানএই পৃষ্ঠা প্রিন্ট করুন
 
নান্দেরের প্রসিদ্ধ গুরুদোয়ারা অবচলনগর সাহিব
হরদীপ কৌর


শ্রী গুরু গোবিন্দ সিংজী অলৌকিক জীবনের অন্তিম পর্বে এই পরম স্থানে এসেছিলেন৷ এই পবিত্র স্থানটা শিখদের পাঁচটা সাহিবানের মধ্যে একটা উল্লেখযোগ্য স্থান৷ শুধু ভারতেই নয় সারা বিশ্বের মানুষই এই গুরুস্থানটির কথা জানেন৷


গুরু গোবিন্দ সিংজীর মা-বাবা আর চার পুত্র যখন দেশের জন্য শহিদ হয়ে যান তখন তিনি সমাজের হিত সাধনের জন্য গোদাবরী নদীর তীরে নান্দের শহরে আসেন৷ নান্দেরে গুরুজী নানা লীলা করেন৷ কোন এক সময় গুরুজী নান্দেরের গুরুদোয়ারার নগীনা ঘাট থেকে তীর চালিয়ে সতগুরুদের তপস্যার স্থান প্রকট করেন৷ সেই তীরটা একটা মসজিদে গিয়ে লাগে৷ তখন গুরুজী আড়াই হাত মাটি খুড়ে সতযুগী আসন,খরম আর মালা বার করে ঐ স্থানটা প্রকট করেন৷ এর বদলে মসজিদের ওই স্থানটা সোনার মোহর বিছিয়ে দেন৷

এই নতুন স্থানটা গড়ার পর গুরুজী সেখানে প্রতিদিন নতুন নতুন লীলা করতে থাকেন৷ সকাল-সন্ধ্যায় নানা রুপ ধরেন৷ চারদিকে আনন্দের মহল তৈরী হয়৷ বিক্রম সংবত 1765তে ( 4 অক্টোবর 1708) ঐ দিন 5 পয়সা আর নারকেল গুরু গ্রন্থসাহিবজীকে অর্পণ করে সাহেবের পরিক্রমা করেন৷ ঐ দিনটাই শিখদের কাছে পরম পবিত্র দিন৷ ঐ পবিত্র দিনে গুরুগ্রন্থ সাহেবের কাছে হাত জোড় করে যুগ যুগ ধরে অটল গুরুগদ্দি অর্পণ করেন৷ এই ভাবে গুরু গ্রন্থ সাহেবকে গুরুর আসন দিয়ে গুরু ভজন গান ৷

এরপরে গুরু সাহেব সর্বত্র শিখদের কাছে এই প্রতিজ্ঞা করেন যুগ যুগ ধরে এই পবিত্র স্থানটির নাম শ্রী অবচলনগর হল৷ এই ভাবে জগতে নানা লীলা করে সংবত 1765 তে কার্তিক সুদী পঞ্চমীর দিনে তিনি বিলীন হয়ে যান৷
WDWD


প্রতিদিন সকালে: নান্দেরে গুরুদোয়ারাতে প্রতিদিন সকালে নিকটস্থ গোদাবরী নদীর তীর থেকে কলসী করে জল নিয়ে সচখন্ডে নিয়ে আসা হয়৷ সুখমনী সাহেবের পাঠ করার পর গুরুগ্রন্থের প্রকাশ করা হয়৷ অরদাস অর্থাত প্রার্থনা করার পরে সারাদিন গুরুদোয়ারাতে পাঠ এবং কীর্তন চলে৷ সন্ধ্যার সময় রহিরাস সাহেবের পাঠ চলে৷ আরতির পরে গুরু গোবিন্দ সিং,মহারাজা রণজিত সিং এবং অকালী ফুলাসিং প্রভৃতি শাস্ত্রের দর্শন করানো হয়৷

কিছুদিন আগেই 2008 এর 30 শে অক্টোবর গুরুগ্রন্থ সাহেবের প্রকাশের 300 বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে এখানে গুরুনা গদ্দি দিবস পালন করা হয়৷ পাঁচ দিনের এই উত্সবে দেশ বিদেশ থেকে লাখ লাখ শিখ সঙ্গত, সন্ন্যাসী আর বিদ্বানরা এতে সামিল হয়েছিলেন৷ এখানে সব গুরু পর্বের সঙ্গে দশমী, দীপাবলী মহাধুমধামে পালিত হয়
WDWD


কেমন করে যাবেন?

বিমান পথে: নান্দের থেকে বিমানবন্দর আছে৷ এখান থেকে সচখন্ডের দূরত্ব মাত্র 5 কিমি৷

সড়কপথে: মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদ থেকে নান্দের প্রায় 300 কিমি দূরত্বে অবস্থিত৷ শহরের সব প্রান্ত থেকেই সরকারী বাস বা ট্যাক্সি করে সহজেই নান্দেরে পৌঁছাতে পারবেন৷

রেলপথে: সব মুখ্য রেলপথের সঙ্গেই নান্দের যুক্ত রয়েছে৷ অমৃতসর থেকে নান্দেরে যাওয়ার বিশেষ ট্রেন রয়েছে৷
ভিডিও দেখুন
এখানে তথ্য খুঁজুন
অতিরিক্ত
জেজুরীর খান্ডোবা মন্দির  
শেখাবাটীর খাটু শ্যামের মন্দির  
শেংদূর্ণীর ত্রিবিকম মন্দির  
ভারতের সব থেকে বৃহত্তম শনি মন্দির  
নন্দুরবারের প্রতিকাশী মন্দির  
আদিশক্তি একবীরা দেবী