
ধর্মযাত্রার এই পর্বে আমরা আপনাদের কোলহাপুর জেলার কৃষ্ণ পঞ্চগঙ্গার সঙ্গমে অবস্থিত নৃসিংহ ওয়াডি গ্রামের দৃশ্য পরিদর্শন করাব৷ ভগবান দত্তের এই দেবভূমিটি নরসোবাবাডি নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে৷ শ্রীপাদশ্রী বল্লভ শ্রীগুরু দত্ত মহারাজ হলেন প্রথম অবতার৷ নৃসিংহসরস্বতী হলেন এর দ্বিতীয় অবতার৷ দত্ত মহারাজ এই স্থানটিতে দীর্ঘ 12 বছর তপস্যা করেছেন৷ এই কারণেই এই স্থানটাকে তপভূমি বলে মনে করা হয়৷ এখানে দত্ত মহারাজের প্রতিমার স্থানে তাঁর চরণ পাদুকাকে পূজো করা হয়৷ পুরাণ অনুসারে এখানে তপস্যা করার পরে দত্ত মহরাজ ওদম্বর,গাণগাপুর পরিদর্শন করে কর্দলীবনে গেছিলেন৷ এখানেই তাঁর অবতার রুপ ধরা শেষ হয়৷ দত্ত ভগবানের পবিত্র স্পর্শে এই স্থানটির খ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে৷ প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্তরা এখানে দত্ত ভগবানের পাদুকা দর্শন করতে আসেন৷ পাদুকাকে প্রণাম করে তারা আশীর্বাদ গ্রহণ করেন৷ দুই নদীর সঙ্গম স্থলে অবস্থিত এটি একটি দর্শনীয় স্থান৷ কৃষ্ণা নদীর তটে মধ্যভাগে অবস্থিত এই স্থানটিতেই দত্ত ভগবানের মন্দিরটি নির্মিত হয়েছে৷ এখানে দত্ত ভগবানের পাদুকা দর্শনেই পুন্য অর্জিত হয়৷ মন্দিরের বিশেষত্ব হল মন্দিরটা মসজিদের আকৃতিতেই তৈরী করা হয়েছে৷ এখানে পাদুকার উপর যে বস্ত্রটা চড়ানো হয় তা মুসলিমদের রীতি অনুসারেই করা হয়৷ এখানে সব ধর্মের মানুষরাই দত্ত ভগবানের পাদুকাটি দর্শন করতে আসেন৷ শ্রী নরসিংহ সরস্বতীকে সন্ন্যাসী রুপে পূজো করা হয়৷ শ্রী জনার্দন স্বামীর অনুমতিতেই একনাথ মহারাজ এই ঘাটটি নির্মাণ করেছিলেন৷ এই ঘাটটি অত্যন্ত সুন্দর৷ এখানে অনেক সাধু সন্ন্যাসীদের সমাধি রয়েছে৷ এছাড়া কয়েকটা ছোট ছোট মন্দিরও রয়েছে৷ এই মন্দিরের আর একটি বিশেষত্ব হল এখানে কেবল সকাল বেলাই পূজোর সময় ঘন্টা বাজানো হয়৷ অন্য সময় ঘন্টা বাজানো নিষিদ্ধ৷ এর প্রধাণ কারণ হল ভক্তরা এখানে এসে ধ্যান করেন৷ ঘন্টা বাজালে তাদের ধ্যানভগ্ন হয়৷ পূর্ণিমার দিনে এখানে হাজার হাজার ভক্তরা আসেন৷ শনিবার হল দত্ত মহারাজের জন্মদিন৷ সেই কারণে প্রতি শনিবার এখানে ভক্তদের ভিড় পরিলক্ষিত হয়৷ তবে দত্ত জয়ন্তীতে এখানে লক্ষ লক্ষ ভক্তরা আসেন৷ কেমন করে যাবেন? সড়ক পথে: নৃসিংহবাডি কোলগাপুর থেকে 40 কিমি দূরত্বে অবস্থিত৷ পুনা থেকে এই মন্দিরটি 245 কিমি দূরত্বে অবস্থিত৷ পুনা এখানে আসার জন্য বাস পাওয়া যায়৷ রেলপথে: মুম্বাই, পুনে ও বেলগাও থেকে কোলহাপুর যাওয়ার জন্য অনেক ট্রেন রয়েছে৷ বিমান পথে: এখানকার নিকটতম বিমানবন্দরটি হল কোলহাপুর৷
|