মুখ্য পৃষ্ঠা > ধর্ম > ধর্ম যাত্রা > নিবন্ধ > মোঢ়েরার বিশ্ব প্রসিদ্ধ সূর্য মন্দির
পরামর্শ বা প্রতিক্রিয়ামিত্রকে পাঠানএই পৃষ্ঠা প্রিন্ট করুন
 
মোঢ়েরার বিশ্ব প্রসিদ্ধ সূর্য মন্দির
ভীকা শর্মা, জনক সিং ঝালা



আমেদাবাদ থেকে 100 কিমি দূরে পুষ্পা নদীর তটে বিশ্বের প্রসিদ্ধ সূর্য মন্দিরটি অবস্থিত৷ ধর্মযাত্রার এই পর্বে আমরা আপনাদের গুজরাটের এই বিশেষ মন্দিরটি দর্শন করাব৷ অনুমাণ করা হয় সম্রাট ভীমদেব সোলাঙ্কী প্রথম খ্রীষ্টপূর্ব 1022 -1063 অব্দে এই মন্দিরটি নির্মাণ করিয়েছিলেন৷

মন্দিরের গর্ভগৃহের দেওয়ালে উত্কীর্ন একটি শিলালিপিতে এই বিষয়টি উল্লিখিত আছে৷ এই শিলালিপিতে উত্কীর্ন রযেছে যে বিক্রম সম্বত 1083 তে অর্থাত (1025-1026 খ্রীষ্ট পূর্বাব্দে )সোমনাথ এবং তার আশেপাশের অঞ্চলে মহম্মুদ গজনী আক্রমণ করেছিলেন৷ গজনীর আক্রমণে সোলাঙ্কী সাম্রাজ্যের রাজধানী অহিলাবাড পাটন তার গৌরব হারিয়ে ফেলে৷ সোলাঙ্কী পরিবার তাদের বৈভব রক্ষার জন্য কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর সঙ্গে মিলে উত্কৃষ্ট মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনা করে৷ সোলাঙ্কীরা ছিলেন সূর্যের উপাসক৷

আরাধ্য দেবতার পূজো অর্চনার জন্য তারা সূর্য মন্দির নির্মাণ করেন৷ এই ভাবেই মোঢেরার সূর্য মন্দিরের উত্পত্তি হয়৷ এই মন্দিরের প্রধান বিশেষত্ব হল মন্দির নির্মাণের জন্য বিন্দুমাত্র চুনের ব্যবহার করা হয় নি৷ ইরানী শৈলীতে নির্মিত এই মন্দিরটি ভীমদেব দুটো অংশে গড়েছেন৷ প্রথম অংশটা গর্ভগৃহ৷ দ্বিতীয় অংশটা সভামন্ডপ৷ মন্দিরের গর্ভগৃহের ভিতরের উচ্চতা 51 ফুট 9 ইঞ্চি আর প্রস্থ 25 ফুট 8 ইঞ্চি৷

মন্দিরের সভা মন্ডপে সব মিলিয়ে 52 টা স্তম্ভ রযেছে৷ এই স্তম্ভগুলোতে বিভিন্ন নকশায় দেব দেবতা এবং রামায়ন, মহাভারতের নানা দৃষ্টান্ত উত্কীর্ন করা হযেছে৷ এই স্তম্ভ গুলোর নীচের দিকে তাকালে অষ্টকোনাকার আকৃতি পরিদর্শিত হয়৷ অপরদিকে উপরে দেখলে গোলাকার রুপটি দেখা যায়৷ সূর্যোদযের প্রথমেই সূর্যের কিরণটা যেন এই মন্দিরের গর্ভগৃহে পড়ে সেই ধাচেই এই মন্দিরটি নির্মিত হয়েছে৷

মন্দিরের সভামন্ডপের ভিতরে একটা বিশাল কুন্ড রযেছে৷ যা সূর্যকুন্ড বা রামকুন্ড নামে পরিচিত৷ আলাউদ্দিন খিলজী যখন এখানে আক্রমণ চালিয়েছিলেন তখন মন্দিরের বেশ খানিকটা অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়৷ বর্তমানে এই মন্দিরের সংরক্ষনের দায়িত্ব পুরাতত্ত্ব বিভাগের হাতে রয়েছে৷

ইতিহাসেও মোঢেরার উল্লেখ রযেছে

স্কন্দ পুরানে এবং ব্রক্ষ্ণ পুরান অনুয়ায়ী প্রাচীন কালে মোঢেরা চার পাশের অঞ্চলটা ধর্মরত্ন নামে পরিচিত ছিল৷ পুরাণ অনুয়ায়ী ভগবান শ্রী রাম রাবণকে মারার পর গুরু বশিষ্টকে এমন একটা স্থান গড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন যেখানে গিয়ে ব্রক্ষ্ণ হত্যার জন্য পাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার উদ্দেশ্যে তপস্যা করতে পারেন৷ তখন গুরু বশিষ্ট শ্রীরামকে ধর্মরত্নে যাওয়ার নির্দেশ দেন৷ এই অঞ্চলটাই মোঢেরা নামে পরিচিত৷

কেমন করে যাবেন?

সড়ক পথে: এই মন্দিরটি আহমেদাবাদ থেকে 102 কিমি দূরে অবস্থিত৷ আহমেদাবাদ থেকে এখানে যেতে হলে বাস এবং ট্যাক্সি করে যেতে পারবেন৷

রেলপথে: এর নিকটতম রেলওয়ে স্টেশনটি আমেদাবাদ থেকে 102 কিমি দূরত্বে অবস্থিত৷

বিমান পথে: এর নিকটতম বিমানবন্দরটি হল আহমেদাবাদ৷
ভিডিও দেখুন
 Play Free Online Games  Click Here
 Blogs, Videos and More  Click Here
 Send Musical and Animated Cards  Click Here
 Simple, Fast & Free Email Service  Click Here
এখানে তথ্য খুঁজুন
অতিরিক্ত
বরোদার কাশীবিশ্বনাথ মন্দির  
ভোপাবরের শান্তিনাথজীর মন্দির  
অরন্মূলের পার্থসারথী মন্দির  
দত্ত মহারাজের তপভূমি নৃসিংহবাডি  
নান্দেরের প্রসিদ্ধ গুরুদোয়ারা অবচলনগর সাহিব  
জেজুরীর খান্ডোবা মন্দির