বহুদিন পূর্বে নানক দেব ঈশ্বরের সন্ধানের জন্যে তার ঘর পরিত্যাগ করেন৷ সেই সময়ে তিনি তার সাথে তার সখা মর্দানাকে সঙ্গে নিয়ে ছিলেন৷ তারা দুই জনে মিলে একসাথে বেড়িয়ে পরে দেশে বিদেশে ভ্রমন করতে থাকেন৷ তাদের উদ্দেশ্য ছিল ঈশ্বরকে প্রত্যক্ষ করা৷ এই সমস্ত বিভিন্ন বিষয়গুলি গ্রন্থ সাহেব থেকে জানা যায়৷ গুরু নানকজী তার বিভিন্ন উপদেশ ও সিধান্তগুলি গ্রন্থ সাহেবে উল্লেখ করা আছে৷ গুরু নানকদেবের একটি বিখ্যাত বাণী হল 'জপুজী'৷
এইটি প্রকৃত পক্ষে হল তার উচ্চারিত একটি বাণী৷ এই বাণীর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সারা বিশ্বের কল্যান করা ও উন্নতি সাধন করা৷ এই উচ্চারিত শব্দটি খুব সাধারন প্রকৃতির শব্দ নয়৷ এর অর্থ হল অত্যন্ত গভীর ধরনের৷ এর মানেটিকে সঠিক ভাবে ব্যাখ্যা করলে বোঝা যাবে এটি প্রকৃত পক্ষে একটি গুরূত্বপূর্ণ শব্দটি কতটা পরিমানে জনকল্যান মূলক ধরনের৷ তাছাড়া এই শব্দের মধ্যে দিয়ে একটি সুন্দর পরিকল্পনার ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে৷ গুরু নানক দেবের বাণীর মধ্যে দিয়ে ব্রক্ষ্ম জ্ঞান সম্ভন্ধে বিস্তারিত ধরনা পাওয়া গিয়ে থাকে৷
তাছাড়ও এই বাণীগুলির ব্যাখ্যা অত্যন্ত জনহিতকারী প্রকৃতির হয়ে থাকে৷ গুরু নানকদেবের বাণীগুলির মাধ্যমের মানুষের জীবন দর্শন পদ্ধতি কেমন ধরনের হওয়া উচিত তার এক পরিষ্কার ধারনা পাওয়া যায়৷ আবার নানকজীর বাণীগুলির মাধ্যমে মানুষের চিন্তা ভাবনার প্রকৃতি সম্ভন্ধেও যথেষ্ঠ জ্ঞান লাভ করা যায়৷ এই বাণীগুলির মধ্যে দিয়ে ধর্মের মধ্যে সকল মূল্যবোধ ও তার প্রয়োজনীয়তাকে সহজ ভাবে বুঝে ওঠা সম্ভব৷ এই বানীগুলির রচনাও খুব সাধারন ধরনের নয়৷
এই বাণীগুলির কেন্দ্রগত অর্থগুলি মানুষকে ধর্ম বিশ্বাসী করে তোলার পক্ষে যথেষ্ঠ৷ তিনি বিভিন্ন ভাষায় পারদর্শী ছিলেন বলে তিনি তার বিভিন্ন বিষয়ের জ্ঞানকে তার বাণীতে উল্লেখ করেছেন৷ এই বাণীগুলির মধ্যে দিয়ে সব সময়ে এক ঈশ্বরবাদ, গুরুকে ভক্তি প্রদান করা, ঈশ্বরে বিশ্বাস রাখা ও ঈশ্বরকে স্মরন করার ব্যাপারগুলি উঠে এসেছে৷
|