মুখ্য পৃষ্ঠা   খেলার জগত্  ক্রিকেট  নিবন্ধ
 
সৌরভ চন্ডীদাস গাঙ্গুলী
জয়দীপ নাথ
সৌরভ চন্ডীদাস গাঙ্গুলী


পুরো নাম---------:------ সৌরভ চন্ডীদাস গাঙ্গুলী
জন্ম-------------:------ 1972 সালের 8ই জুলাই, ক্যালকাটা (বর্তমান কলকাতা), পশ্চিমবাংলা, ভারতবর্ষ৷
বর্তমান বয়স------:------ 34 বছর 333 দিন৷
প্রধান দল---------:------ ভারতবর্ষ, বেঙ্গল, এসিসি এশিয়ান একাদশ, এশিয়া একাদশ, গ্ল্যামারগন এবং ল্যাঙ্কাশায়ার৷
ডাকনাম----------:------ দাদা
খেলার পজিশন------:------ ওপেনিং ব্যাটসম্যান ও পার্টটাইম বোলার
ব্যাটিং স্টাইল-------:------ বাঁহাতি খেলোয়াড়
বোলিং স্টাইল-------:-------ডান-হাতি মিডিয়াম পেস বোলার
উচ্চতা------------:------ 5.11 ফুট
কোন খেলোয়াড়------:------- টেস্ট ম্যাচ ও একদিনের ম্যাচ

জীবনী

সৌরভ গাঙ্গুলীর ক্রিকেট কেরিয়ারের সঙ্গে মহিন্দর অমরনাথের ক্রিকেট কেরিয়ার মিল খায় তার একটাই কারন জিমির মত বার বার বাদ পড়ে সফলভাবে ফিরে এসেছেন৷ ভারতের সর্বকালের সেরা অধিনায়কদের কথা উঠলে একজনের কথাই আসবে, সে হল সৌরভ গাঙ্গুলী৷ তার মত সফল আর কোন ভারতীয় অধিনায়ক হতে পারে নি৷ কিছুটা আসতে পারে নবাব পতৌদির কথা৷ তার সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা অতি বড় শত্রুও অস্বীকার করতে পারবে না৷ শুধুমাত্র বেঙ্গলের খেলোয়াড় হওয়ার কারনে তাকে বিভিন্ন সময় প্রাদেশিকতার শিকার হতে হয়েছে৷

তাকে প্রথম সুযোগ দেওয়া হয় 1992 সালের অস্ট্রেলিয়া সফরে৷ সেখানকার ত্রিদেশীয় সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে একটা খেলায় সুযোগ দেওয়া হয়৷ সেই ম্যাচে তিনি 3 রান করেন৷ আর তারপর থেকে তাকে শুধুমাত্র সুযোগ পাওয়ার জন্য প্রায় 4 বছর অপেক্ষা করতে হয়৷ 1996 সালের বিশ্বকাপের পর ভারত যখন ইংল্যান্ড সফরে যায় তখন তিনি সুযোগ পায়৷ তার টেস্ট অভিষেক ঘটে লর্ডসের মাঠে, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে৷ একটা সুযোগেই তিনি বুঝিয়ে দেন ও রাজকীয়ভাবে তিনি 131 রানের ইনিংস খেলেন৷ এর সাথে সাথে বল হাতে 2 উইকেট নেন৷ এরপর আবার টেন্টব্রীজে তিনি আবার শতরান করেন৷ এরপর তাকে যে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নি তা নয়৷ তার বিরুদ্ধে নিন্দুকেরা ক্রমাগত সমালোচনা করে গেছেন৷

এরপর তিনি তার খেলার দৌলতে তাকে একদিনের ম্যাচে ওপেন করতে বলা হয় সচিনের সঙ্গে৷ তারপর তার ও সচিনের ওপেনিং পার্টনারশিপ বহু রেকর্ড ভেঙ্গেছে৷ 2000 সালে বেটিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়া ভারতীয় দলের অধিনায়কের দায়িত্ব নেন৷ তারপর থেকে ঝিমানো ভারতীয় দলকে একেবারে চাঙ্গা করে তোলেন৷ তার দক্ষ নেতৃত্বে ভারতীয় দল স্টীভ ওয়াঘের অস্ট্রেলিয়ার বিজয় রথ থামিয়ে দেয়৷ প্রথম টেস্ট ম্যাচ মুম্বাইতে হয়৷ সেখানে ভারত হেরে গেলেও পরের দুটো টেস্টে জিতে সিরিজ জিতে নেয় অবিশ্বাস্যভাবে৷ কারণ 2য় টেস্টে (কলকাতা) ভারত হরভজন সিংয়ের হ্যাটট্রিক সমেত 7 উইকেট দখলের পরেও অসিরা 445 রান করে৷ জবাবে ভারত মাত্র 171 রানে অলউইকেট হবার পর ফলো অন করতে নামে৷

তারপর যেটা হল সেটা অবিশ্বাস্য৷ ফলো অন করতে নেমে ভারত লক্ষণ ও দ্রাবিড়ের হার না মানা ব্যাটিংয়ের কারণে 657 রান করে ও অসিদের সামনে 384 রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রা রাখে৷ ফের হরভজনের দুর্দান্ত বোলিংয়ের (73 রানে 6 উইকেট) সামনে 212 রানে তারা গুটিয়ে যায়৷ ভারত 171 রানে জয়লাভ করে 3 টেস্টের সিরিজ 1-1 করে৷ পরে শেষ টেস্ট ম্যাচ জিতে সিরিজ 2-1 জিতে নেয়৷ আবার পাকিস্তানে গিয়ে সৌরভের নেতৃত্বাধীন ভারত সেখানে টেস্ট সিরিজ জেতে৷ যেটা আর কোন অধিনায়ক পাকিস্তান থেকে সিরিজ জিততে পারিনি৷

2003 সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পিছনে সৌরভের ভুমিকার কথা অস্বীকার করা যাবে না৷ 2003 সালের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ হারার পর পুরো ভারতীয় দল যখন ভেঙ্গে পড়েছে ঠিক তখন তিনি পরের ম্যাচে অধিনায়কোচিত শতরানের ইনিংস খেলেন৷ তারপর থেকে দল যে জিততে আরম্ভ করল সেটা অবশেষে থামে ফাইনালে গিয়ে৷ বিশ্বকাপের পর রাইট সরে যাওয়ার পর চ্যাপেলকে মূলত তিনিই কোচ করে আনেন৷ কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে সেই চ্যাপেল তাকে বাদ দেন৷ তার কঠোর পরিশ্রমের কারণে তিনি আবার 2007 সালের বিশ্বকাপ দলে চান্স পান৷ ভারত প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিলেও তার পারফরম্যান্স ছিল সবার থেকে আলাদা৷

আর এইজন্য তিনি আমাদের সকলের 'মহারাজা'৷ যাকে বাঙালী জাতি দেখে প্রেরণা পায়৷ যাকে দেখে বাঙালী জাতির গর্বে বুক ভরে ওঠে৷ আমাদের তিনি সত্যিকারের মহারাজা৷ মহারাজা তুমি এগিয়ে চল আমরা তোমার সাথে আছি৷ আমাদের সবায়ের শুভকামনা রইল তোমার সাথে এবং আমরা জনি আবার তুমি নেতৃত্ব পাবে ও ভারতীয় দল তার পুরানো ছন্দ ফিরে পাবে৷

ব্যাটিং ও বোলিং পরিসংখ্যান :

----------টেস্ট ম্যাচ(ব্যাটিং) -----------
ম্যাচ-------------:-------93 টা
ইনিংস-----------:------- 149 টা
নটআউট---------:------- 13 বার
মোট রান---------:---- 5563 রান
বল খেলেছেন------:------ 11250 টা
সর্বোচ্চ-----------:----- 173 রান
গড়-------------:-------40.90
100র সংখ্যা-------:------- 13 টা
50-র সংখ্যা-------:------- 27 টা
মোট 6-এর সংখ্যা---:------- 45 টা
মোট 4-এর সংখ্যা---:------ 711 টা
ক্যাচআউট--------:------ 64 বার
স্ট্রাইক রেট--------:------ 49.44

-------একদিনের ম্যাচ(ব্যাটিং) ----------

ম্যাচ-------------:-------289 টা
ইনিংস-----------:------- 279 টা
নটআউট---------:------- 22 বার
মোট রান---------:---- 10632 রান
বল খেলেছেন------:------ 14426 টা
সর্বোচ্চ-----------:----- 183 রান
গড়-------------:------- 41.36
100র সংখ্যা-------:------- 22 টা
50-র সংখ্যা-------:------- 66 টা
মোট 6-এর সংখ্যা---:------- 178 টা
মোট 4-এর সংখ্যা---:------ 1036 টা
ক্যাচআউট--------:------ 98 বার
স্ট্রাইক রেট--------:------ 73.70


------------টেস্ট ম্যাচ(বোলিং) -----------
ম্যাচ-------------:------- 93 টা
বল করেছেন-------:------ 2540 টা
উইকেট----------:-------- 26 টা
রান দিয়েছেন------:------- 1441 রান
বেস্ট ইনিংস ------:------ 3/28
বেস্ট ম্যাচ--------:-------- 3/37
গড়-------------:------- 55.42
ইকোনোমিক রেট-----:------- 3.40
স্ট্রাইক রেট--------:------ 97.69
4টি উইকেট/ইনিংস --:------- 0 বার
5টি উইকেট/ইনিংস --:------- 0 বার
10টি উইকেট/ম্যাচ --:------- 0 বার

------------একদিনের ম্যাচ(বোলিং) -----------

ম্যাচ-------------:------- 289 টা
বল করেছেন-------:------ 4195 টা
উইকেট----------:-------- 95 টা
রান দিয়েছেন------:------- 3535 রান
বেস্ট ইনিংস ------:------ 5/16
বেস্ট ম্যাচ--------:--------5/16
গড়-------------:-------37.21
ইকোনোমিক রেট-----:------- 5.05
স্ট্রাইক রেট--------:------ 44.15
4টি উইকেট/ম্যাচে --:------- 1 বার
5টি উইকেট/ম্যাচে --:------- 2 বার

সর্বশেষ সংযোজন : 06. 06. 2007
অতিরিক্ত
ম্যাথু হেডেন (অস্ট্রেলিয়া)
সৌরভ গাঙ্গুলি (প্রিন্স অফ ক্যালকাটা/দাদা)
এডাম গিলক্রিস্ট (অস্ট্রেলিয়া)
রিকি পন্টিং (অস্ট্রেলিয়া)
শচিন রমেশ তেন্ডুলকর
রাহুল শরদ দ্রাবিড়