মুখ্য পৃষ্ঠা >  খেলার জগত্ > ক্রিকেট > নিবন্ধ
পরামর্শ বা প্রতিক্রিয়ামিত্রকে পাঠানএই পৃষ্ঠা প্রিন্ট করুন
 
ভারতীয় ক্রিকেট কোন পথে যাবে
20-20 বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস তৈরি করে জাতীয় দলের নায়কের ঘরে ফিরছেন৷ মাঝের মাত্র দুই দিন তার পরে শুরু হয়ে যাবে অষ্ট্রেলিয়ার সঙ্গে একদিনের সিরিজ৷ ইতিমধ্যেই প্রথম ম্যাচের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে৷

বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর আবার ধোনির হাত ধরে উপমহাদেশে ক্রিকেটের পালে হাওয়া লেগেছে৷ আজ সকালে দলকে মুম্বাই বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে ছিল বোর্ডে বড়, মেজ, ছোট সব কর্তাই৷ তাদের খুশি যেন ক্রিকেটারদের থেকেও বেশি৷ কিন্তু এই খুশি কি 20-20 বিশ্বকাপ জেতার জন্য না আবার খেলা নিয়ে ভাল ব্যাবসা হবে সেই খুশিতে৷


আগামী অষ্ট্রেলিয়া সফরের প্রথম চার ম্যাচের জন্য দল ঘোষনা করা হয়েছে৷ স্বাভাবিক ভাবে তাতে কোন চমক নেই৷ দলে স্বাভাবিক ভাবে ফিরে এসেছেন দলের সব তারকা৷ আছেন সচিন, সৌরভ, দ্রাবিড়, জাহির সকলেই৷ কিন্তু 20-20 বিশ্বকাপের সারা জাগানো অনেক মুখ কিন্তু এই প্রতিযোগিতায় নেই৷

যদিও ঘোষিত দল প্রথম চার ম্যাচের জন্য৷ আর তার ঘোষনা করা হয়েছিল 20-20 বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে৷ কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠছে যারা দলকে কাপ জিততে সাহায্য করল তাদের ভবিষ্যত কি৷ এর কোন উত্তর বোর্ড কর্তাদের কাছে নেই৷

দলে চমক বলতে ধোনির অধিনায়ক হওয়া৷ তা চমক বলা ঠিক হবে কিনা তাও এক বড প্রশ্ন৷ কারণ দ্রাবিড় হটাত করে সরে না দাড়ালে বোর্ড এই সিদ্ধান্ত নিত না৷ আর ক্যাপ্টেন হিসাবে ধোনির ভবিষ্যত কি৷ একটা টুর্ণামেন্ট জিতেও দল কিছু বড় প্রশ্নের সামনে৷ ভারতীয় ক্রিকেটের স্বার্থে এর সমাধন এখন হওয়া দরকার৷

এই দলে আছেন ধোনি, যুবরাজ, পাঠান, হরভজন, পিযুশ, জাহিরস শ্রীশান্ত, আর পি, দিনেশ, রবিন, রমেশ ও গৌতম গম্ভীর৷ তবে 20-20 বিশ্বকাপে খেলা ইউনুস পাঠান, যোগিন্দার শর্মা, রোহিত শর্মা সহ বাকি খেলোয়াদের কি হবে৷


বোর্ড কর্তাদের কাছে এর কোন সদউত্তর নেই৷ কোন যুক্তিতে লেগ স্পিনার পিযুশ চাওলাকে দল থেকে বাধ দেওয়া হয়েছিল তা হয়্ত বোর্ড কর্তারাও জানেন না৷ এখন প্রশ্ন আমরা আগামী দিনের কথা ভেবে দলে নতুন খেলোয়াড়দের দলে নেব না পুরোন মুখকে খেলিয়ে যাব৷ এই বির্তক ভারতীয় ক্রিকেটে বেশ পুরনো৷

কিন্তু এখন সময় হয়েছে অভিঞ্জতা আর তারুন্যের মধ্যে একটা পথকে বেছে নেওয়ার৷ কেন ধোনিকে শুধু অষ্ট্রেলিয়া সফরের জন্য অধিনায়ক করা হবে৷ তাহলে কি বোর্ডের আড়ালে কোন ইচ্ছা আছে৷ একাধিক বোর্ড কর্তা ফিসফাস শুরু করেছে ধোনি নয় সচিনকে অধিনায়ক করতে হবে৷ কিন্তু কোন যুক্তিতে৷ আগামী বিশ্বকাপ হয়ত সচিন, সৌরভ বা রাহুলের পক্ষে খেলা সম্ভব হবে না৷

এমন কি 20-20 মত টুর্ণামেন্টের ধকল কতটা এর নিতে পারবে তাও সন্দেহের উর্দ্ধে নয়৷ তবে কেন ধোনিকে দীর্ঘ মেয়াদি ভিত্তিতে অধিনায়ক ঘোষনা করবে না বোর্ড৷

দলে সিনিয়ার খেলোয়াড়রা এসে যাওয়াতে স্বাভাবিক ভাবে কয়েকজন খেলয়াড় দলের বাইরে চলে যাবে৷ এরা এখন থেকে দলের সঙ্গে শুধু মাত্র অতিথি হিসাবে ঘুরবে৷ কারণ এটা খুব শক্ত ব্যাপার সচিন, সৌরভ বা রাহুলকে বসিয়ে অন্য কোন খেলয়াড়কে দলে নিয়ে আসা৷

আরও এক ব্যাপার এরা যে ফর্মে আছে তাতে এই ত্রয়ীকে বসানো শক্ত কাজ৷ তাহলে বসবে কে৷ একদিনের ম্যাচে ধোনি অধিনায়ক তাহলে দিনেশ কার্তিকের কি হবে৷ দিনেশের ভবিষ্যত কি বিশ্বনাথের মত৷ বেশ কিছু দিন দলের সঙ্গে অতিথি রুপে ঘুরে বেরিয়ে এক সময় কিপিং করা ভুলে যাবে৷ আসল 20-20 বিশ্বকাপ জিতে ভারতীয় টিম এক বড় প্রশ্নের সামনে৷ বোর্ড কর্তারা জানেন না এর উত্তর৷ তবে বোর্ড এখন এই সব বির্তকিত প্রশ্নের মুখোমুখি হতে চায় না৷ কারন এখন ভারতীয় ক্রিকেটে সব ঠিক চলছে৷


একদিনের ম্যাচে ভারতের র্ফমুলা সাত ব্যাটসম্যান ও চার বোলার৷ সচিন, সৌরভ, রাহুল যুবরাজ ও ধোনি দলে থাকবেই তাহলে দলে থাকার জন্য থাকছে মাত্র দুটো জায়গা৷ এখন গম্ভীর বা কার্তিক দলে আছে মিডিল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসাবে না ওপেনার হিসাবে৷ যদি ওপেনার হিসাবে থেকে থাকে তবে প্রশ্ন হল একটা মাত্র ঘরোয়া সিরিজ খেলার জন্য দলে চার ওপেনার কোন যুক্তিতে লাগে৷

আর বোর্ডের যুক্তি যদি হয় মিডিল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসাবে হয় তাও বিশেষ বাস্তব সম্মত নয়৷ কারণ এর মুলত দলে ওপেনার হিসাবে খেলেছে৷ আসলে যুক্তি আর বুদ্ধির থেকে বোর্ডের দল নির্বাচন হয় আনুগত্যের উপর ভিত্তি করে৷ বোর্ডের এই দিশাহীন সিদ্ধান্ত ভারতীয় ক্রিকেটকে এক বড় ক্ষতির পথে নিয়ে যাচ্ছে৷ এমন কি অধিনায়্ক ইস্যু নিয়ে বোর্ড কর্তাদের নানা মত৷

যদি দল ঘরের মাঠে অষ্ট্রেলিয়ার সঙ্গে হারে তাহলে কি ধোনি একদিনের ম্যাচে ক্যাপ্টেন হিসাবে ব্রাত্য হয়ে যাবে৷ ভারতীয় বোর্ড কখনই কোন সুদুর প্রসারী সিদ্ধান্ত নিতে পারে না৷ আর এর ফল ভো সুদুর প্রসারী হতে বাধ্য৷
অতিরিক্ত
সৌরভ কি পাবেন নেতৃত্বের পদ?
20-20 ক্রিকেট ও তার বিশ্বকাপ
সচিন রমেশ তেন্ডুলকার
সৌরভ চন্ডীদাস গাঙ্গুলী
ম্যাথু হেডেন (অস্ট্রেলিয়া)
সৌরভ গাঙ্গুলি (প্রিন্স অফ ক্যালকাটা/দাদা)